বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদ।
খবর সংযোগের পাঠকদের জন্য ফেসবুক পোস্ট তুলে ধরা হলো..
চিঠিতে বিদিশা এরশাদ তারেক রহমানকে দেশের কোটি কোটি মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অনেক নাগরিকের কাছে তিনি এখন আশার প্রতীক। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম তার নেতৃত্বে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও ভবিষ্যতমুখী বাংলাদেশ দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমানের বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বিদিশা লেখেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিমানবন্দর, বাসস্ট্যান্ড এবং রেলস্টেশনে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা এবং পর্যায়ক্রমে ঘরে ঘরে ফ্রি ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা ইতোমধ্যে মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। পাশাপাশি কড়াইল বস্তিতে বহুতল ভবন নির্মাণ ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতিকেও তিনি জনগণের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রূপরেখা জানতে কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন বিদিশা এরশাদ। তিনি স্পষ্ট করেন, তার প্রশ্নগুলো সমালোচনার উদ্দেশ্যে নয়; বরং পরিকল্পনাগুলো আরও ভালোভাবে বোঝার আগ্রহ থেকেই।

চিঠিতে তিনি বলেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশে সার্বিকভাবে বিনামূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করা প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য কী ধরনের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভাবা হচ্ছে- তা জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে টেলিকম অপারেটরদের সঙ্গে সরকারের সমন্বয় কীভাবে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব কি না- সেই প্রশ্নও তোলেন।
এ ছাড়া তিনি সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সেসব দেশের পার্থক্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য কোন আন্তর্জাতিক মডেল সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে সে বিষয়েও তারেক রহমানের অবস্থান জানতে চান তিনি।
চিঠির শেষাংশে বিদিশা এরশাদ সম্ভাব্য কিছু বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে- দেশব্যাপী পাবলিক ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন বৃদ্ধি, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যের উচ্চগতির ইন্টারনেট, গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ইন্টারনেট সুবিধা চালু।
তিনি আরও লেখেন, তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতিগুলো মানুষের মনে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এসব প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ দিতে হলে সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরা জরুরি। এতে জনগণের আস্থা আরও বাড়বে বলেও তিনি মত দেন।
চিঠিতে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিদিশা এরশাদ উল্লেখ করেন, একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা হিসেবে তিনি জানেন- শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে ইন্টারনেট কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তার ছেলে এরিক এরশাদ, তারেক রহমানের ‘ঘরে ঘরে ফ্রি ইন্টারনেট’ ঘোষণায় আনন্দ প্রকাশ করেছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
শ্রদ্ধাসহ,
একজন সচেতন নাগরিক
বিদিশা এরশাদ
( এরিক এরশাদের মা,)

