জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ কোটি টাকার ব্যাখ্যা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

আপডেট : ৩১ মে ২০২৬, ০২:৪২ এএম

কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়ে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। 

জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার এক বক্তব্যের পর তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে মুঠোফোনে এই ব্যাখ্যা চান হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার একটি বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ব্যক্তিগত তহবিল নয়, অর্থ বরাদ্দ হয়েছে উন্নয়ন কাজের জন্য: হাসনাত আব্দুল্লাহ

এ বিষয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অর্থ তার এলাকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটিকে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ আত্মসাৎ বা 'টাকা খাওয়া' হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।

জেলা পরিষদ প্রশাসকের সাথে ফোনালাপ প্রকাশ

উদ্ভূত পরিস্থিতির পর বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে সরাসরি মুঠোফোনে কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। পরবর্তীতে সেই ফোনালাপের অডিও রেকর্ডটি তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন।

ফোনালাপে যা জানা গেল:

অডিওতে হাসনাত আব্দুল্লাহকে '১৫ কোটি টাকা খাওয়ার' অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইতে শোনা যায়।

জবাবে প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, "রাজস্ব খাতসহ সব খাত মিলিয়ে আপনার এলাকায় ১০ কোটি টাকা গেছে। আপনারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছেন। আপনার উপজেলায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে, আর ওই এলাকায় (আসিফ মাহমুদের এলাকায়) ১৫ কোটি টাকা গেছে।"

প্রশাসক আরও পরিষ্কার করে বলেন, "আপনি টাকা খেয়েছেন সেটা তো আমি বলিনি। আমি বলেছি, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আপনাদের দুই উপজেলায় মোট ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হয়তো আমার বক্তব্য গণমাধ্যমে সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।"

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সরকারি উন্নয়ন তহবিলের নিয়মতান্ত্রিক বরাদ্দকে গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করার কারণেই এই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল, যা ফোনালাপের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

HN
আরও পড়ুন