চলতি বছরেই দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ০২:২০ পিএম

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরেই দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

এছাড়া নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন।

মৃত্যুর ঝুঁকি সত্ত্বেও তিনি দেশে ফিরবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, সমস্ত বাধা-বিপত্তি এবং সব ষড়যন্ত্র কাটিয়ে আমি এই বছরেই আমার দেশে ফিরব।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে ঢাকার একটি আদালত ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ড উসকে দেওয়া, নির্দেশ দেওয়া এবং নৃশংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে।

মৃত্যুদণ্ডের এই রায়কে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে শেখ হাসিনা দেশের বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।

তিনি দাবি করেন, বিচার বিভাগকে তাঁর দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে নির্মূল করার জন্য "রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার" হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, "আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।" এর আগেও তাঁর দলকে ভেঙে দেওয়ার অতীতের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং এবারও তা ব্যর্থ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও যোগ করেন, তাঁর এই ফিরে আসার পরিকল্পনা কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, বরং রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনর্বহালের একটি বৃহত্তর মিশনের অংশ।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের আমলেও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে, যা মূলত পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময় প্রথম আরোপ করা হয়েছিল।

এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে নিজের দল আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই গেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, "আওয়ামী লীগ কোনো কাগজের সংগঠন নয়, এটি বাংলার মাটিতে, বাংলার মানুষের মাঝে, বাংলার ইতিহাসে এবং বাঙালি জাতির পরিচয়ের গভীরে প্রোথিত একটি রাজনৈতিক শক্তি।"

তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেওয়া ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার করে, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিয়ে এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ করে দিয়ে একটি সঠিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা উচিত।

অন্যদিকে, বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান এই আইনি প্রক্রিয়াগুলোকে সমর্থন ও ডিফেন্ড করে জানিয়েছে, শেখ হাসিনা প্রশাসনের শেষ মাসগুলোতে সংঘটিত হওয়া অপরাধের জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

YA
আরও পড়ুন