যুগপৎভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে গণতন্ত্র মঞ্চ

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:২০ পিএম

সরকার পতনের একদফা দাবিতে যুগপৎভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। 'সরকার ও শাসনব্যবস্থা বদলে ঐক্যবদ্ধ হোন, তামাশার নির্বাচন, জনগণের প্রত্যাখান এবং চলমান আন্দোলন বিষয়ে' এ সংবাদ সম্মেলনে গণতন্ত্র মঞ্চ নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এটা এমন নয় যে একদিনেই এর জবাব আমরা দিয়ে দিতে পারবো। আর আমরাতো আন্দোলনে আছি। সংবাদ সম্মেলন করছি, এটাও আন্দোলনের একটা অংশ। আর ধারাবাহিকভাবে আমরা গত ২৮ অক্টোবর থেকে প্রতিটি কর্মসূচি পালন করছি। আমরা ঘোষণা করছি, লাগাতারভাবে এই আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

মান্না আরও বলেন, আমাদের এখানকার রাজনৈতিক কারণে একটা পয়েন্টে কথা বলছি, কিন্তু একই মঞ্চে আসতে পারছি না। এটা নিয়ে মাঝে মাঝে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়। এজন্য আমরা যুগপৎ আন্দোলনের কথা বলছি। এখন পর্যন্ত এই আন্দোলন যুগপৎ ধারায় আছে। আমরা যুগপৎ আন্দোলন করছি, আছি এবং কন্টিনিউ করতে চাই। পারলে এটাকে আরো সম্প্রসারিত করবো। তবে তার ধরণ কেমন হবে, সেটা সবার সঙ্গে কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে আমরা ঠিক করবো।

লিখিত বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে যে প্রহসন অনুষ্ঠিত হয় তাতে ক্ষমতা বদলের কোন সুযোগ ছিল না। সরকারি দল তাদের নিজেদের মধ্যে থেকেই ডামি প্রার্থী দাঁড় করিয়ে একটা কৃত্রিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখানোর আয়োজন করেছে। এর বাইরে সরকারি দলের বর্তমান ও সাবেক জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির মধ্যে দিয়ে তারা প্রতিযোগিতার ন্যূনতম জায়গাকেও বদ্ধ করেছে। সবচেয়ে বড় কথা দেশের বড় অংশের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো এই প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার ফলে এই নির্বাচন আগে থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন একতরফা হিসেবে জনগণের কাছে প্রতিভাত হয়েছে। কাজেই কোনোভাবেই এটা একটা নির্বাচনের মর্যাদা পেতে পারে না। আসলে এটা গণতন্ত্রের কফিনের শেষ পেরেক ঠোকার এক আয়োজন হিসেবেই ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, সিল মেরেও ভোটের শতকরা হার তারা ২৮ এর বেশি নিয়ে যেতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনের লাইভ ভোট মনিটার রাত ৯টা ৩০ পর্যন্ত ভোটের গড় হার দেখিয়েছে ২৮%। ব্রিফিংকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়াল ২৮ শতাংশ ভোট পড়ার কথা বললেও তাকে পাশ থেকে বলা হয় এটা ৪০% হবে। তারপর থেকে নির্বাচন কমিশন ৪০% ভোট পড়েছে বলে বয়ান দিয়ে যাচ্ছে। অথচ এর আগে বলা হয়েছিল বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৬-২৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। সারাদিন ভোটের হার বিবেচনায় এক ঘণ্টায় ১৩-১৪% ভোট বেড়ে যাওয়া রীতিমতো ম্যাজিক।

সংবাদ সম্মেলনে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

SN
আরও পড়ুন