রাজধানীর গুলশান থানায় নাশকতার একটি মামলায় ২১ মাসের সাজা পাওয়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক এমপি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম জামিন পেয়েছেন। রোববার (১০ মার্চ) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে হাফিজের আইনজীবী আপিল শর্তে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।
হাফিজ উদ্দিনের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। আইনজীবী জানান, আর কোনো মামলা না থাকায় তার মক্কেলের কারামুক্তিতে কোনো বাধা নেই।
এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে হুইল চেয়ারে করে উপস্থিত হন হাফিজ উদ্দিন। এরপর আপিল শর্তে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে এই বিএনপি নেতাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের জন্য ভারতে যান হাফিজ উদ্দিন। চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ২৮ ডিসেম্বর আদালত তার ২১ মাসের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে গত ৩ মার্চ ভারতে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন তিনি।
হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলাটি ২০১১ সালের ৪ জুনের। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গুলশান থানাধীন মহাখালী ওয়ারলেছ গেট পানির ট্যাংকির সামনে রাস্তার ওপর অবৈধ সমাবেশ থেকে পুলিশের কাজে বাধা দেন বিএনপির এই নেতা। পুলিশের ওপর আক্রমণ করেন। রাস্তার চলাচলরত গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেন।
২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের পর গুলশান থানার এসআই কামরুল হাসান তালুকদার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল এ মামালায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার আগে আদালত এই মামলায় ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন।

