মির্জা ফখরুল কী মহাসচিব পদ ছেড়ে দেবেন? যা বললেন মেজর হাফিজ

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৪, ১১:৪৬ এএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব পদে পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন চলছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, এটি দল পুনর্গঠনে নেতৃত্বের পরিবর্তনের অংশ। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে বিলুপ্ত হয়েছে ছাত্রদলের কমিটি। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম, জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও আসতে পারে পরিবর্তন। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, দলের প্রয়োজনে নেতৃত্বে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিএনপি রাজপথে সরব থাকলেও গত ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পিছু হটে। একের পর এক গ্রেপ্তার হন মহাসচিবসহ দলটির সিনিয়র নেতারা।

ভোটের পর মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ জেল থেকে মুক্তি পান বিএনপির প্রায় সব নেতা। তবে মুক্তির পর রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি মির্জা ফখরুলকে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অসুস্থতার কারণে আপাতত রাজনীতি থেকে দূরে আছেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) বেসরকারি একটি টেলিভিশনকে বলেছেন, তিনি (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) অসুস্থ। হয়ত তিনি নিজেও চলে যেতে (মহাসচিব পদ থেকে) চান। বিএনপি তো অন্য ধরনের দল। এখানে দলের চেয়ারপারসনই সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’

বিএনপিতে মহাসচিব পরিবর্তন হতে পারে, দলের ভেতরে বাইরে এমন গুঞ্জনের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটিতেও নতুন মুখ নিয়ে চলছে আলোচনা। দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, নিতাই রায় চৌধুরী, মো. শাহজাহান, আহমেদ আজম খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল কবির রিজভীসহ কয়েকজনের নাম আসছে নানা সূত্র থেকে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দল পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। কেন যে যোগ্য ব্যক্তিদের পদায়ন করা হয় না এটি আমার কাছেও একটি প্রহেলিকার মতো মনে হয়। দু-তিনজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে ১২-১৩ জন মিলে সিদ্ধান্ত নিলেই তো ভালো হয়।’

দলটির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বেসরকারি ওই টেলিভিশনকে বলেন, ‘দুদিন আগে বা পরে কেন্দ্রীয় কমিটিতে যে পদগুলো শূন্য আছে, সেগুলো তো পূরণ করতেই হবে। আমাদের সাংগঠনিকটা যত দ্রুত করতে পারব ততই আমাদের সুবিধা।’

এদিকে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বেও আসতে পারে পরিবর্তন। সম্প্রতি হঠাৎ করেই ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে নতুন নেতৃত্ব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘কমিটি দেওয়ার পর তিন বছর রাখতে হবে এমন না। যদি কমিটি আশানুরূপ কাজ না করতে পারে, তাহলে আমি ওই কমিটি আগেও ভাঙতে পারি আবার পরেও ভাঙতে পারি। সুতরাং দলের পুনর্গঠন কার্যক্রম তো চলমান।’

১৭ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা যোগ্য এবং ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে বিএনপি।

AST
আরও পড়ুন