ফিলিস্তিনের তৃতীয় সর্বোচ্চ পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদে আসন্ন রমজান মাসে মুসল্লিদের প্রবেশ আরও সীমিত করার পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ সিদ্ধান্ত ধর্মপ্রাণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ ইকরিম সাবরি বলেছেন, ইসরায়েলি প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, আল-আকসা ইস্যুতে কঠোর নীতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির।
মুফতি সাবরি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই তরুণদের মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দখলকৃত পশ্চিম তীর থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য রমজানে কোনো বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে না। ফলে আগের বছরের তুলনায় মুসল্লির সংখ্যা কমে যেতে পারে। এছাড়া পূর্ব জেরুজালেমের শত শত ফিলিস্তিনি বাসিন্দার বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই তরুণ।
এছাড়া, পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসার আশপাশে ফিলিস্তিনি পাড়াগুলোতে বাড়িঘর ভাঙার ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছর রমজানে পশ্চিম তীর থেকে বহু ফিলিস্তিনি মুসলিম আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সামরিক চেকপোস্টগুলোতে কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে জেরুজালেমে প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপিত হয়েছে।
শায়খ সাবরি বলেন, ‘মুসলমানরা মহানবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) সুন্নাহ অনুসারে আশাবাদ নিয়ে রমজানকে স্বাগত জানায়। কিন্তু জেরুজালেমের ক্ষেত্রে দখলদার কর্তৃপক্ষ আল-আকসায় আগত মুসল্লিদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
গত দুই বছরে অল্পসংখ্যক মানুষ ইসরায়েলি বাহিনীর বিশেষ অনুমতি পেয়েছেন। এ বছর রমজান উপলক্ষে এমন কোনো বিশেষ ব্যবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ২০০৩ সাল থেকে স্থানীয় পুলিশ একতরফাভাবে ইসরায়েলি চরমপন্থীদের মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে আসছে, যদিও ইসলামিক ওয়াক্ফ বিভাগ বারবার তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
মুফতি শায়খ ইকরিম সাবরি আরব ও মুসলিম দেশগুলোর জনগণ ও নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জেরুজালেম ও আল-আকসা ইস্যুতে দায়িত্ব পালন করার জন্য এবং ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
কোরআন হাদিসের বর্ণনায় ‘মসজিদুল আকসা’
২০২৬ সালের হজের ভিসা দেওয়া শুরু আজ
