আরাফার দিনে যেসব আমলে মিলবে গুনাহমুক্তি

আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হলো হজ। সঠিকভাবে হজ আদায়ের মাধ্যমে একজন মুসলমান গুনাহমুক্ত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো জিলহজ মাসের ৯ তারিখ, অর্থাৎ পবিত্র আরাফার দিন। এই দিন আরাফার ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন। হাজিদের জন্য যেমন, তেমনি সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্যও দিনটি আল্লাহর নৈকট্য লাভ, গুনাহ মাফ ও দোয়া কবুলের বিশেষ সুযোগ।

হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, আরাফার দিনের রোজা পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হয়। সহিহ মুসলিম

পবিত্র এই দিনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল তুলে ধরা হলো—

আরাফার রোজা রাখা

আরাফার দিনের রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। যারা হজে নেই, তাদের জন্য এই রোজা রাখা সুন্নত ও বড় সওয়াবের কাজ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, আরাফার দিনের রোজা আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করিয়ে দেবে।' সহিহ মুসলিম

তাকবিরে তাশরিক পাঠ

জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব।

সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর পথেঘাটে, বাজারে, ঘরে ও নামাজের পর তাকবির পাঠ করতেন। সহিহ বোখারি

তওবা ও ইস্তিগফার করা

আরাফার দিন ক্ষমা প্রার্থনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়। এদিন আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন।

পবিত্র আল-কোরআন-এ বলা হয়েছে, 'তারা ক্ষমা প্রার্থনা করা অবস্থায় আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না।'

রাসুল (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করবে, আল্লাহ তার সব সংকট থেকে মুক্তির পথ বের করে দেবেন।' সুনানে আবু দাউদ

বেশি বেশি দোয়া করা

আরাফার দিন দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়গুলোর একটি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।' জামে তিরমিজি

তাই নিজের ও পরিবারের জন্য, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।

কোরআন তিলাওয়াত

কোরআনের প্রতিটি হরফ তিলাওয়াতে রয়েছে নেকি। পবিত্র এই দিনে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভ করা যায়।

রাসুল (সা.) বলেছেন, 'কোরআনের একটি হরফ পড়লে একটি নেকি পাওয়া যায়, আর প্রতিটি নেকি দশগুণ বৃদ্ধি করা হয়।' জামে তিরমিজি

দান-সদকা ও নফল ইবাদত

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই আরাফার দিনে অভাবী মানুষকে সাহায্য করা, নফল নামাজ পড়া ও দান-সদকা করা বিশেষ ফজিলতের কাজ।

পবিত্র আল-কোরআন-এ বলা হয়েছে, 'তোমরা যা কিছু দান করো, আল্লাহ তার উত্তম প্রতিদান দেন।'

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'দান-সদকা সম্পদ কমায় না।' সহিহ মুসলিম

গুনাহ থেকে নিজেকে হেফাজত করা

আরাফার দিনে শুধু জিকির-ইবাদতই নয়, চোখ, কান, জিহ্বা ও হাত-পাসহ শরীরের সব অঙ্গকে পাপ থেকে দূরে রাখা জরুরি।

রাসুল (সা.) বলেছেন, 'মানুষ কখনো চিন্তা না করেই এমন কথা বলে ফেলে, যার কারণে সে জাহান্নামের গভীরে নিক্ষিপ্ত হয়।' সহিহ বোখারি

শেষকথা

আরাফার দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য এক মহামূল্যবান উপহার। এদিন ইবাদত, তওবা, দোয়া ও নেক আমলের মাধ্যমে একজন মুসলমান নিজের গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারে এবং দুনিয়া-আখেরাতের কল্যাণ লাভ করতে পারে। তাই এই ফজিলতপূর্ণ দিনটি যেন অবহেলায় নষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে প্রতিটি মুমিনের সচেতন থাকা উচিত।

AS
আরও পড়ুন