রোজার জন্য সেহরি খাওয়ার অনেক উপকারিতা

নবিজি (সা.) বলেছেন, ‘সেহরি খাওয়া বরকতপূর্ণ কাজ। সুতরাং আপনারা তা পরিত্যাগ করবেন না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি করুন। যারা সেহরি খায় আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমদ)

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৫, ০৪:০১ পিএম

রমজান মাসে ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখার পূর্বে সেহরি হলো শেষ খাবার। রোজার সময় যে ক্লান্তি বা খিটখিটে ভাব আসতে পারে, ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী সেহরি সেই সমস্যাগুলো এড়াতে সাহায্য করে এবং বরকম বয়ে আনে। সহীহ আল-বুখারীর একটি হাদিসে বর্ণিত আছে যে, আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেছেন, ‘নবীজি (সা.) বলেছেন, 'সেহরি খাও, কেননা সেহরির মধ্যে অনেক কল্যাণ নিহিত রয়েছে।’

ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রা.) বলেন, ‘রমজানে একদিন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আমাকে সেহরি খেতে ডাকলেন; বললেন, বরকতময় খাবার খেতে আসুন।’ (মুসনাদে আহমদ)

সেহরি খাওয়াকে মুসলমানদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে নবিজি (সা.) বলেছেন, ‘আমাদের রোজা ও আহলে কিতাব বা পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের অনুসারীদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া।’ (সহিহ মুসলিম)

আরেকটি বর্ণনায় নবিজি (সা.) বলেছেন, ‘সেহরি খাওয়া বরকতপূর্ণ কাজ। সুতরাং আপনারা তা পরিত্যাগ করবেন না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি করুন। যারা সেহরি খায় আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমদ)

তাই নবিজির (সা.) অনুসরণ ও বরকত লাভের নিয়তে সেহরি খেয়েই রোজা রাখার চেষ্টা করা উচিত। সুযোগ থাকলে সেহরির বরকত হাতছাড়া করা উচিত নয়।’

রোজার জন্য সেহরি খাওয়ার অনেক উপকারিতা আছে। এর মধ্যে কয়েকটি হলো—

১. সেহরি খেলে নবিজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নত ও নির্দেশ পালনের সওয়াব পাওয়া যায়। তিনি নিজে সেহরি খেয়েছেন এবং সাহাবিদেরও সেহরি খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এবং সেহরির খাবারে আল্লাহ তাআলা বরকত দান করেন, ফেরেশতাদের দোয়া পাওয়া যায় যেমন উল্লিখিত হাদিসগুলোতে বর্ণিত হয়েছে।

২. সেহরির জন্য উঠলে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নামাজ তাহাজ্জুদ আদায়ের সুযোগ পাওয়া যায়। অন্যান্য সময় যারা তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে পারেন না, তারাও রোজা উপলক্ষে তাহাজ্জুদ আদায়ের সুযোগ পান।

৩. সেহরি খেলে সুবহে সাদিকের আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে রোজার নিয়ত করার ‍সুযোগ পাওয়া যায়। রোজার জন্য নিয়ত জরুরি আর তা রাতের মধ্যে করা কখনও জরুরি কখনও উত্তম।

উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি সুবহে সাদিকের আগে রোজা রাখার নিয়ত করবে না তার রোজা (পূর্ণাঙ্গ) হবে না।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১/৩৩৩)

৪. রোজা শুরুর পূর্বমুহূর্তে সাহরি খেলে সারাদিন রোজার জন্য না খেয়ে থাকা সহজ হয়। তীব্র ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অনুভূতি কম হয়।

৫. সুবহে সাদিকের আগে সেহরি করা ও সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করার মাধ্যমে বিশেষভাবে প্রকাশ পায় যে, মুমিন বান্দা শুধু আল্লাহর নির্দেশের আনুগত্য করার জন্য ও তার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টুকু না খেয়ে থাকছে।

বাংলাদেশসহ অনেক দেশে এখন, সেহরির সময় মসজিদ থেকে মাইক দিয়ে ডেকে জাগিয়ে তোলা হয়। এছাড়া কিছুক্ষণ পর পর সেহরি শেষ হতে কত সময় বাকি আছে তা ঘোষণা করা হয়। একই সাথে বিভিন্ন ইসলামি গজল, গান পরিবেশন করা হয়।

NC
আরও পড়ুন