মিশরের পিরামিড নির্মাণের রহস্য উন্মোচন

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম

হাজার বছর ধরে অমীমাংসিত মিশরের গিজার মহাপিরামিড নির্মাণের রহস্য নিয়ে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গবেষকরা দাবি করছেন, কোনো অলৌকিক ক্ষমতা নয় বরং ‘পুলি’ (চাকার মতো যন্ত্র) এবং ‘কাউন্টারওয়েট’ পদ্ধতির মতো উন্নত প্রকৌশল ব্যবহার করেই তৈরি করা হয়েছিল এই প্রাচীন বিস্ময়।

প্রতি মিনিটে বসানো হয়েছিল একটি ব্লক!

বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় পিরামিড নির্মাণের বিস্ময়কর গতি নিয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের ওয়েইল কর্নেল মেডিসিনের গবেষক ডা. সাইমন আন্দ্রিয়াস স্কিউরিং-এর নেতৃত্বে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণার কিছু চমকপ্রদ তথ্য হলো:

  • পাথরের সংখ্যা: পিরামিড তৈরিতে প্রায় ২৩ লাখ চুনাপাথরের ব্লক ব্যবহৃত হয়েছে।
  • বিশাল ওজন: সবচেয়ে ছোট ব্লকের ওজন ২ টন হলেও বড় ব্লকগুলোর ওজন ৬০ টনেরও বেশি।
  • নির্মাণ কাল: পুরো পিরামিডটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ২০ বছর। সেই হিসাবে প্রতি এক মিনিটে গড়ে একটি করে ব্লক নিখুঁতভাবে বসানো হয়েছিল।

আগে ধারণা করা হতো, বাইরে থেকে ঢালু রাস্তা বা র‍্যাম্প ব্যবহার করে নিচ থেকে ওপরে পাথর তোলা হতো। তবে নতুন গবেষণায় এই তত্ত্বকে অপর্যাপ্ত বলা হয়েছে। ডা. সাইমন ও তার দলের মতে, পিরামিডের ভেতরেই ঢালু পথ ছিল। সেখানে কাউন্টারওয়েট চালিত পুলি ব্যবস্থা ব্যবহার করে ভারী পাথরগুলোকে ওপরে তোলা হতো। এই পদ্ধতিতে শক্তির সাশ্রয় হতো এবং কাজ হতো অনেক দ্রুত।

গবেষকদের মতে, পিরামিডটি আসলে ভেতর থেকে বাইরের দিকে তৈরি করা হয়েছিল।

গ্র্যান্ড গ্যালারির গোপন রহস্য

পিরামিডের ভেতরের গ্র্যান্ড গ্যালারি ও ঊর্ধ্বমুখী পথ (অ্যাসেন্ডিং প্যাসেজ) বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, সেখানকার দেয়ালে ঘষার সুনির্দিষ্ট চিহ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, এগুলো কেবল মানুষের চলাচলের পথ ছিল না; বরং এখানে ভারী ‘স্লেজ’ ও ‘কাউন্টারওয়েট’ ওঠানামা করত। দেয়ালের মসৃণতা সেই যান্ত্রিক চলাচলেরই প্রমাণ বহন করে।

অ্যান্টিচেম্বার নিয়ে নতুন ভাবনা

পিরামিডের ভেতরের ‘অ্যান্টিচেম্বার’ বা ছোট গ্রানাইট কক্ষটি নিয়ে প্রচলিত ধারণা ছিল যে, এটি কবর চোরদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি নিরাপত্তা গ্রিল। তবে নতুন গবেষণায় এই কক্ষটির ভিন্ন ও যান্ত্রিক ব্যবহারের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা পিরামিড নির্মাণের মূল কৌশলের সাথে যুক্ত ছিল বলে গবেষকরা মনে করছেন।

বিজ্ঞানীদের এই নতুন তত্ত্ব পিরামিড নিয়ে যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা ধোঁয়াশা দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, প্রাচীন মিশরীয়রা তাদের সময়ের চেয়েও অনেক বেশি উন্নত প্রকৌশলবিদ্যায় পারদর্শী ছিল।

NB/FJ
আরও পড়ুন