ইরান যুদ্ধ

সামরিক সংঘাত ছাড়িয়ে এবার অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০২:০৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এক নতুন ও জটিল রূপ ধারণ করেছে। সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি এখন উভয় পক্ষই একে অপরের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলাকে বিশ্লেষকরা সামরিক লড়াই থেকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ রূপান্তর হিসেবে দেখছেন। কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক জায়েদন আলকিনানি জানিয়েছেন, এই কৌশলগত চাপ মূলত প্রতিপক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করার একটি প্রক্রিয়া।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, খার্গ দ্বীপের সামরিক স্থাপনার পর এবার জ্বালানি অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট তেল স্থাপনাগুলোকে ‘ছাইয়ের স্তূপে’ পরিণত করার হুমকি দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ‘এনার্জি ডমিন্যান্স’ নীতির মাধ্যমে মিত্রদের জ্বালানি নিরাপত্তার আশ্বাস দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান তাদের অত্যাধুনিক ‘হায়দার’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যুদ্ধের এই অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। পশ্চিম ইরানের ইলাম প্রদেশে বিমান হামলায় ৬ মাসের শিশুসহ একই পরিবারের ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,৪৫০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ২,৫০০ মার্কিন মেরিন সেনার প্রথম দল ওকিনাওয়া থেকে ইরানের পথে রয়েছে। সব মিলিয়ে সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ নেই, বরং অর্থনৈতিক উৎসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় এই যুদ্ধের আঁচ বিশ্বজুড়ে আরও দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

SN
আরও পড়ুন