ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে প্রথম মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:১৫ এএম

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে রোজিল্যান্ড জর্ডান জানিয়েছেন, জাপানের ওকিনাওয়া থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা 'ইউএসএস ত্রিপোলি' নামক একটি উভচর যুদ্ধজাহাজে করে রওনা হয়েছে। এই জাহাজ থেকেই মেরিনরা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন হবে তা কোনো সংকটের মোকাবিলা করতেই হোক বা ইরানের কোনো ভূখণ্ড দখলের জন্যই হোক। মূলত এদেরকেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে মোতায়েনকৃত প্রথম স্থলসেনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়াচ্ছে এবং দ্রুত এই সংঘাত শেষ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ১,৪৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ২,৫০০ মেরিন সেনাকে সরাসরি স্থল অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য ওকিনাওয়া থেকে ওয়ান থিয়েটারে পাঠিয়েছে। 'ইউএসএস ত্রিপোলি' জাহাজে করে আসা এই বাহিনীকে ইরানি ভূখণ্ড দখল বা জরুরি সংকটে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন, যা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে, পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলায় সামরিক স্থাপনাগুলো বিধ্বস্ত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হবে ইরানের তেল অবকাঠামো। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের হেলিপ্যাডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানে ফিলিস্তিনপন্থী বিশাল সমাবেশের পরপরই রাজধানী জুড়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। লেবাননেও ইসরায়েলি হামলায় ১২ জন চিকিৎসকসহ ৭৭৩ জন নিহত হয়েছেন।

এই যুদ্ধকালীন অস্থিতিশীলতার মধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ফ্রান্স ও ইতালি। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা তেহরানের সাথে প্রাথমিক আলোচনা চালাচ্ছে। ফ্রান্স একটি বহুজাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে, যা যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপত্তা দেবে। ২০২৪ সালের হিসাব মতে, ইউরোপের বড় অংশের জ্বালানি এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার ও বাহরাইন তাদের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

SN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত