কল্পবিজ্ঞান আর বাস্তবের মধ্যকার পার্থক্য ক্রমেই মুছে দিচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। সম্প্রতি চিনা রোবটিক্স স্টার্টআপ কোম্পানি 'অ্যাহেডফর্ম' (AheadForm) এমন এক হিউম্যানয়েড বা মানবসদৃশ রোবটের মুখ তৈরি করেছে, যা দেখে সাধারণ মানুষের পক্ষে এটি যন্ত্র না মানুষ তা বোঝা প্রায় অসম্ভব। চোখের পলক ফেলা থেকে শুরু করে সূক্ষ্মতম আবেগ প্রকাশ—সবই করতে সক্ষম এই রোবটটি, যা বর্তমানে ইন্টারনেটে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
'AheadForm Origin M1' নামের এই রোবট মুখটির একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, রোবটটি মানুষের মতোই স্বাভাবিকভাবে চোখ নাড়াচাড়া করছে এবং কথা বলার সময় ঠোঁটের নিখুঁত সমন্বয় ঘটাচ্ছে।
কোম্পানিটি দাবি করেছে, মানুষের অ-মৌখিক সংকেত (Non-verbal cues) বুঝতে এবং সেই অনুযায়ী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে এটি সক্ষম।
এই অভাবনীয় সক্ষমতার পেছনে রয়েছে উচ্চতর প্রকৌশল বিদ্যা। রোবটটির মুখের ভেতরে ২৫টি অত্যন্ত ক্ষুদ্র 'মাইক্রো মোটর' বসানো হয়েছে। এই মোটরগুলো মানুষের ত্বকের নিচের পেশির মতো কাজ করে নিখুঁত অভিব্যক্তি তৈরি করে। পাশাপাশি এতে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) যুক্ত করা হয়েছে, যা রোবটটিকে মানুষের সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে এবং আবেগ শেয়ার করতে সাহায্য করে।
২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চিনা কোম্পানিটি মূলত এমন রোবট তৈরিতে কাজ করছে যা সরাসরি মানুষের সাথে মিথস্ক্রিয়া করতে পারবে। তাদের তালিকায় ‘ল্যান সিরিজ’ এবং ‘এলফ ভি১’-এর মতো আরও উন্নত প্রজেক্ট রয়েছে।
অ্যাহেডফর্ম-এর প্রতিষ্ঠাতা হু ইউহাং জানান, আগামী ২০ বছরের মধ্যে রোবটরা মানুষের মতোই স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে এবং কাজ করতে পারবে।
ভিডিওটি দেখে অনেকেই একে বিখ্যাত সায়েন্স ফিকশন সিরিজ ‘ওয়েস্টওয়ার্ল্ড’-এর সাথে তুলনা করছেন। যদিও কেউ কেউ রোবটটির অতি-বাস্তবসম্মত লুক দেখে কিছুটা ভীত বা ‘ক্রিপি’ বলে মন্তব্য করেছেন, তবে প্রযুক্তির এই উন্নতি ভবিষ্যতে সেবা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূর্যের কাছে এসে উজ্জ্বল হলো রহস্যময় ধূমকেতু ‘থ্রি-আই অ্যাটলাস’
মানুষের পর প্রথম ‘কাল্পনিক খেলায়’ পারদর্শী প্রাণীর সন্ধান
