সৌদিতে ৪ হাজার বছরের পুরোনো চিতার মমি আবিষ্কার

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলীয় আরার শহরের কাছে মরুভূমির গুহায় প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত সাতটি চিতার মমির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওয়াইল্ডলাইফ-এর বিজ্ঞানীরা ২০২২ এবং ২০২৩ সালে বন্যপ্রাণী জরিপ চালানোর সময় এই অভাবনীয় আবিষ্কারটি করেন। 

চিতাগুলোর কঙ্কাল এবং নরম কোষগুলো অত্যন্ত শুষ্ক পরিবেশে প্রাকৃতিকভাবেই মমি হয়ে অক্ষত অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি এই মমিগুলোর ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু তথ্য পেয়েছেন, যা আরব উপদ্বীপে চিতা পুনর্বাসনের প্রচেষ্টায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সৌদি আরবে কেবল এশীয় চিতারই বিচরণ ছিল বলে আগে যে ধারণা করা হতো, তা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। উদ্ধার হওয়া মমির ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা গেছে, আরবের মরুভূমিতে একসময় উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকান চিতারও অবাধ বিচরণ ছিল। 

‘কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ জার্নালে প্রকাশিত এই তথ্য প্রমাণ করে যে, আরব উপদ্বীপ একসময় চিতার বিভিন্ন প্রজাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সেতু হিসেবে কাজ করত। এটি কেবল তাদের যাতায়াতের পথ ছিল না, বরং হাজার হাজার বছর ধরে তারা এখানে বংশবৃদ্ধি করে টিকে ছিল।

গবেষক দলের প্রধান আহমেদ আল বৌগ জানিয়েছেন, চিতা সাধারণত গুহা ব্যবহার করে না, তাই তাদের এই আচরণ বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে। গবেষকরা ধারণা করছেন, অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়া এই চিতাগুলোকে প্রাকৃতিকভাবে মমি হতে সাহায্য করেছে। এই গুহাগুলো থেকে ৫৪টি বিড়ালজাতীয় প্রাণীর কঙ্কালও উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে পুরোনোটি প্রায় ৪ হাজার বছরের প্রাচীন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কিছু মমি মাত্র একশ বছরের পুরোনো, যার অর্থ হলো মানুষ আগে যা ভাবত তারচেয়েও অনেক বেশি সময় পর্যন্ত চিতা এই অঞ্চলে টিকে ছিল।

এই আবিষ্কারটি চিতা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গবেষক আদ্রিয়ান টরডিফ মনে করেন, এই ডিএনএ তথ্যের ফলে এখন জানা সম্ভব হয়েছে যে ঠিক কোন প্রজাতির চিতা এই অঞ্চলের পরিবেশের জন্য উপযুক্ত। ফলে অন্য কোনো দূরবর্তী পরিবেশ থেকে চিতা না এনে ঐতিহাসিকভাবে এই মাটিতে বাস করা প্রজাতির কাছাকাছি চিতা দিয়েই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। বর্তমানে সৌদি আরবের বিশাল সংরক্ষিত এলাকাগুলো চিতার আদি শত্রু এবং মানুষের উৎপাত থেকে মুক্ত থাকায় এই পুনর্বাসন পরিকল্পনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। চিতা ফিরে এলে মরুভূমির বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য আবার পূর্ণতা পাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: সিএনএন

NB
আরও পড়ুন