সাধারণত চৈত্রে গরমের দাপট শুরু হয়। এবারও তা–ই হয়েছে। তাপমাত্রা বেশি। প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা সাধারণ মানুষের। রাজধানীসহ অনেক জেলায় বইছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ। ফ্যানের বাতাসেও স্বস্তি মিলছে না। গরম থেকে বাঁচতে অনেকে ছুটছে নামিদামি সব এসির দোকানে। কিন্তু এসি কেনার সময় মাথায় সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খায় যে প্রশ্নটি সেটা হলো কত টন এসি কিনব? অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান কত টনের এসি তার ঘরের জন্য প্রয়োজন। অথচ এসির ‘টন’ শব্দটি মোটামুটি সবার পরিচিত। টন কথাটার অর্থ অনেকেই জানেন আবার অনেকেই জানেন না।
এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) মান বা সক্ষমতা ‘টন’–এ পরিমাপ করা হয়। কিন্তু টনের মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনের ওজন বোঝায় না, বরং এর সক্ষমতা বোঝায়। তাই এই পরিমাপ ব্যবহার করা কিছুটা অযৌক্তিক বলে মনে হতে পারে। কারণ ইলেকট্রনিক পণ্যের ক্ষমতা বোঝাতে সাধারণত ওয়াট ব্যবহার করা হয়।
এক টন এসি মানে হলো ১২০০০ বিটিইউ/আওয়ার, ১.৫ টন মানে হলো ১৮০০০ বিটিইউ/আওয়ার, এভাবে বাড়তে থাকে। এক টনের একটি এসি প্রতি ঘণ্টায় ঘর থেকে ১২০০০ বিটিইউ তাপ শোষণ করতে পারে। দুই টন এসি থাকা মানে প্রতি ঘণ্টায় ২৪ হাজার বিটিইউ তাপ বের করে দেওয়া।
আরও সহজে বলতে গেলে এক টন বরফ এক ঘণ্টায় একটা ঘরের তাপমাত্রা যতটা ঠাণ্ডা করবে, এক টন এসির কার্যক্ষমতাও একই। তার অর্থ যত বেশি টন মানের এসি; তত বেশি কুলিং ক্ষমতা।
বিটিইউ হলো মান পরিমাপের একক এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিমাপ অনুযায়ী ঘরের প্রতি বর্গফুটের জন্য ২০ বিটিইউ/ঘণ্টা প্রয়োজন। অর্থাৎ, ধরে নেওয়া যায় যে বিটিইউ/ঘণ্টার মান যত বেশি হবে, এসি তত শক্তিশালী হবে।
যাইহোক, এর মানে এই নয় যে সবসময় বেশি দামের এসিতে বিনিয়োগ করা উচিত। কারণ এর জন্য ঘরের আকার বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় এসি কার্যকরী ও একইসঙ্গে ভালো নির্বাচন হবে না।
