ভিসা জটিলতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ব ফুটবলের মহাযুদ্ধে অংশ নিতে মেক্সিকো পৌঁছেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। বিমানবন্দরেই তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় সমর্থকরা।
যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তবর্তী মেক্সিকোর শহর তিহুয়ানায় রোববার (৭ জুন) স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় অবতরণ করে ইরান দল।
তিন সপ্তাহ তুরস্কে অনুশীলন করে মেক্সিকোর উদ্দেশে যাত্রা করেন তারা। সেখান থেকেই রাতভর ফ্লাইটে জার্নি করে মেক্সিকোতে পৌঁছায় দলটি। মেক্সিকো যাত্রার আগে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানে ওঠার আগে পবিত্র কোরআনে চুমু দিচ্ছেন ইরানের ফুটবলাররা।
এডিদকে তিহুয়ানা বিমানবন্দরে পৌঁছুলে ছোট একটি সমর্থকগোষ্ঠী উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় ‘টিম মেল্লি’কে। বিমানবন্দর থেকে খেলোয়াড়দের বহনকারী বাস বেরিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় এক ডজন সমর্থক তাদের অভিবাদন জানান। তাদের মধ্যে ছিলেন তিহুয়ানার বাসিন্দা ও পেশায় মেকানিক সাদেগ গালাভি। এএফপিকে গালাভি বলেন, ‘তাদের দেখে আমি খুব রোমাঞ্চিত।’
ইরান দলকে স্বাগত জানাতে ভোরে ঘুম থেকে উঠতে দ্বিধা করেননি ত্রিশোর্ধ্ব গালাভি। ইরানের জাতীয় দলের সাদা জার্সি পরে তিনি বলেন, ‘আমার জাতীয় দল আমার শহরে আসছে। তাদের স্বাগত জানাতে এখানে থাকা আমার পক্ষ থেকে খুব ছোট একটি কাজ।’
ইরানের জন্য এই অভ্যর্থনা ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে দলটি। খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে প্রয়োজনীয় ভিসা পেলেও প্রতিনিধি দলের সবাই ভিসা পাননি। প্রায় ১৫ জন কর্মকর্তা ভিসা পাননি বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে আছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজও। তিনি আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ওয়াশিংটন।
ভিসা জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গালাভি বলেন, ‘আমার কাছে এর কোনো মানে হয় না। খেলাধুলা শান্তির প্রতীক হওয়ার কথা। তাই যখন আপনি রাজনীতি ও খেলাধুলা একসঙ্গে মেশাবেন, তখন সেটি কাজ করে না।’
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপে ইরান দলকে ঘিরে বিতর্কের নতুন অধ্যায় এই ভিসা ইস্যু। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলা শুরুর পর থেকেই ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যেখানে কোনো অংশগ্রহণকারী দেশ আয়োজক দেশের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় থেকেও সেই টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় তেহরানও পরিষ্কার করেনি, তাদের দল বিশ্বকাপে খেলতে পারবে কি না। শেষ পর্যন্ত ফিফার অবস্থানই প্রাধান্য পায়। তবে দুই সপ্তাহ আগে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানায়, দলটি আর যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টুসনে থাকবে না। এর বদলে তারা বেস ক্যাম্প সরিয়ে নেয় মেক্সিকোর তিহুয়ানায়।
মেসির শেষ সুযোগ, সেরা সময়ে এমবাপ্পে
পূর্ণ শক্তির দল পাচ্ছে না আর্জেন্টিনা, দুশ্চিন্তায় স্কালোনি