বিশ্বকাপে ১৮ গোলের মেসির কাছে সেরা কোনটি?

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ এএম

ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসি যা করলেন, তা মহাকাব্য। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই ডালাসের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পেনাল্টি মিসের চরম হতাশায় মুষড়ে পড়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। 

সেখান থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসার গল্পটা কিংবদন্তিদের কিংবদন্তিদের জন্যই প্রযোজ্য।

ম্যাচের ৯ মিনিটে পেনাল্টি মিসের পর মেসি যখন দুই হাতে মুখ ঢেকেছিলেন, তখন গ্যালারির ৮০ হাজার দর্শকের হৃৎস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গিয়েছিল। 

কিন্তু সেই রাগই হয়তো তাকে জ্বলে উঠতে সাহায্য করেছে। মেসি নিজেই বললেন, ‘পেনাল্টি মিস করার কারণে ওই মুহূর্তে আমি সত্যিই খুব রেগে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তা পুষিয়ে দিতে পেরেছি।’

৩৮ মিনিটে ফাকুন্দো মেদিনার ক্রস থেকে থিয়াগো আলমাদার ডামি এবং মেসির বাঁ পায়ের নিঁখুত শট—এই গোলটিই ছিল টার্নিং পয়েন্ট। 

২০১৪ সালের পর বিশ্বফুটবল এক নতুন রাজার অপেক্ষায় ছিল, সেই অপেক্ষা ঘুচিয়ে মেসি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ছাড়িয়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকা এককভাবে সিংহাসনে বসলেন। 

ইনজুরি টাইমের গোলটি কেবল ব্যবধানই বাড়ায়নি, বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার ১৮তম গোলের মাইলফলক নিশ্চিত করেছে। 

স্মৃতি রোমন্থন করলে ২০০৬ সালের সেই ১৬ জুন ফিরে আসে। ১৮ বছর বয়সে সার্বিয়া-মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে মেসির সেই প্রথম গোলটি ছিল এক জাদুকরী সফরের শুরু। ২০ বছর পর সেই একই ছেলে আজ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

বিশ্বকাপের এই ১৮টি গোলের মধ্যে মেসির কাছে কোনটি সেরা? অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে ক্লান্তি যেন মেসির কণ্ঠে ভর করেছে। রেকর্ড গড়ার এই বিশাল রাতেও তিনি বিনয়ী। 

ক্লান্তিভরা স্বরে মেসি বললেন, ‘সত্যি বলতে আমি জানি না, এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে না। আমি ক্লান্ত, আমার শক্তি কমে আসছে। আমার ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। যাই হোক, আমি এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে যাচ্ছি। আমার সতীর্থদের সাথে উদযাপন করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

নিজের রেকর্ড নিয়ে মেতে থাকার চেয়ে সতীর্থদের সঙ্গে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেওয়াতেই যেন তিনি বেশি তৃপ্ত। 

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১২১তম গোল এবং বিশ্বকাপে ২৮ ম্যাচে ১৮তম জয়ের মাধ্যমে ক্লোসাকে (১৭ জয়) পেছনে ফেলে মেসি এখন জয়ের রেকর্ডেরও মালিক।

HN
আরও পড়ুন