পাকিস্তানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে যা জানা গেলো

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আগামী শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) অথবা সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)।

বাংলাদেশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করায় আইসিসি তাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিয়েছে। পাকিস্তান এটাকে অন্যায় ও দ্বিমুখী নীতি বলে মনে করছে। পিসিবি বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। 

‘টেলিকম এশিয়া স্পোর্ট’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ‘অপেক্ষার খেলা’ খেলছে বলে মনে করা হচ্ছে। তারা চাইছে, প্রথম দুই ম্যাচে (৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ও ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে) জিতে সুপার এইট নিশ্চিত করা। তারপর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ (১৫ ফেব্রুয়ারি, কলম্বো) বয়কট করা।

যদি প্রথম দুই ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে ভারত ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এতে তারা প্রতিবাদ জানাতে পারবে, তবে টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি বাদ পড়ার ঝুঁকি কমবে।

এছাড়া পিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রতিবাদের কথা জানাতে পারে। সম্ভাব্য উপায়, খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরা। ভারত ম্যাচ বয়কট। জয়গুলো বাংলাদেশের সমর্থনে উৎসর্গ।

এদিকে গত সোমবার পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সব বিকল্প খোলা রেখে সমাধান করা হবে। সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে। নকভি বলেছেন, সরকার যা বলবে, তাই মানা হবে। এদিকে আইসিসি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বয়কট করলে পাকিস্তানকে সাসপেনশন, ফাইন বা অন্য শাস্তি দেওয়া হতে পারে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ব্রডকাস্ট থেকে বড় রাজস্ব আসে, তাই ক্ষতিপূরণের দাবি উঠতে পারে।

আইসিসি বলছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি যথেষ্ট নয়। তারা একাধিকবার আলোচনা করেছে, কিন্তু বাংলাদেশ অনড় ছিল। পাকিস্তানের হস্তক্ষেপকে অনেকে অপ্রয়োজনীয় বলছে, কারণ এতে পাকিস্তানের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে পাকিস্তান প্রশ্ন তুলেছে আইসিসির দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে, ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পাকিস্তানে নিরাপত্তার বলায় দিলে- তা সরিয়ে ভিন্ন ভেন্যুতে খেলানো হয়। কিন্তু আইসিসির পুর্ন্য সহযোগী দেশ বাংলদেশ একই প্রশ্ন তুললে তাদের ক্ষেত্রে কেন ভিন্ন পদক্ষেপ। 

পরিস্থিতি এখনো ঝুলে আছে। পাকিস্তান যদি শুধু ভারত ম্যাচ বয়কট করে, তাহলে প্রতিবাদ হবে কিন্তু বড় শাস্তি এড়ানো যেতে পারে। তবে পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করলে ক্রিকেটে বড় ধাক্কা লাগবে। সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।

AHA
আরও পড়ুন