ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাসুদ করিম ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুবেল আহমেদ আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান জবানবন্দি রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, দুই দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ড শেষে গত শনিবার রুবেলকে আদালতে হাজির করেন সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা। আসামি রুবেল স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তা রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করেছিল সিআইডি।
গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণার সময় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৪ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, যেখানে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপ নেয়। শুরুতে তদন্তের দায়িত্ব ডিবি পুলিশের কাছে ছিল। ডিবি গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ও ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ডিবি’র দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী আদালতে ‘নারাজি’ আবেদন করলে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে ভোটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
সাবেক কাউন্সিলরের নির্দেশে খুন হয় ওসমান হাদি: ডিবি
