এশিয়ান কাপের অনুশীলন শুরু বাংলাদেশের

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

১-২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে নারী এশিয়ান কাপ টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্ট সামনে রেখে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন শুরু করেছে। সকালে ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার জাতীয় স্টেডিয়ামে ঋতুপর্ণাদের অনুশীলন করিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে থাইল্যান্ডে সপ্তাহ খানেক ক্যাম্প ও একটি অনুশীলন ম্যাচ খেলানোর পরিকল্পনা ছিল বাফুফের। থাইল্যান্ডে ঋতুপর্ণাদের ম্যাচের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় বাফুফে ঝুঁকেছিল ফিলিপাইনে। সেখানে সব কিছু ইতিবাচক থাকলেও কোচ পিটার বাটলার এখন আর অন্য দেশে গিয়ে খেলতে চান না।

ফেডারেশনকে তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি লিগ শেষ হয়েছে। এই সপ্তাহে ম্যাচ খেললে ফুটবলারদের ইনজুরির শঙ্কা রয়েছে এবং এই ম্যাচের ফলাফল মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। কোচের এই যুক্তিতে ফেডারেশন ঢাকায় পাঁচ-ছয় দিন অনুশীলনের পর সরাসরি দলকে সিডনি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেন, ‘টিম এখন সরাসরি অস্ট্রেলিয়া যাবে। ২০ ফেব্রুয়ারি সিডনির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারে। এর আগে আর অন্য কোনো দেশে যাওয়া হচ্ছে না। সিডনিতে গিয়ে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে স্থানীয় ক্লাবের সঙ্গে।’

মিয়ানমারে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া এশিয়া কাপ নিশ্চিত করে গত বছর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে। মিয়ানমার থেকে দল ফেরার পরই বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশের প্রথম এশিয়া কাপকে ‘মিশন অস্ট্রেলিয়া’ নাম দেন। আকর্ষণীয় নাম দিলেও আদৌ এই টুর্নামেন্টের জন্য কোনো রোডম্যাপই দিতে পারেনি ফেডারেশন কিংবা নারী উইং।

নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ জাপান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘদিনের ক্যাম্প ও অনুশীলন ম্যাচের পরিকল্পনা একাধিকবার জানালেও বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে তার ব্যাখ্যা, ‘যারা নিয়মিত এশিয়া কাপে খেলে আমরা তাদের দেশে গিয়ে প্রস্তুতি নেয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। তারা অন্য পরিকল্পনা আগেই নেয়ায় সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা তাই মালয়েশিয়া, আজারবাইজানকে ঢাকায় এনে খেলিয়েছি ও থাইল্যান্ড দুই ম্যাচ খেলেছি।’ 

তাবিথ আউয়ালের নির্বাহী কমিটি এক বছরের বেশি সময় পার করেছে। নারী ফুটবল এশিয়া কাপে খেলছে অথচ এখনো নারী উইং পূর্ণাঙ্গ করতে পারেননি বাফুফে সভাপতি। চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ একাই কাজ করছেন। আর সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম মাঝে মধ্যে মিডিয়ায় নারী ফুটবল নিয়ে বক্তব্য দেন। যদিও তিনি নারী উইংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জড়িত নন। বিগত কয়েক মাসে দুই জনের বক্তব্যে পরস্পর বিরোধিতা ও সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে একাধিকবার।

কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব তাই কোচ বাটলারের প্রকৃত জবাবদিহিতা নেই। সুইডিশ প্রবাসী আনিকাকে নিজে অনুশীলন না করিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলে রাখছে অথচ সাবিনা-মাসুরাদের মতো অভিজ্ঞ-পরীক্ষিতদের ক্যাম্পে ডাকারও প্রয়োজন মনে করেন না। আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর যেখানে কোচের প্রতিক্রিয়া প্রদান স্বাভাবিক রীতি, সেখানে হারের পর নিয়মিত এড়িয়ে যান বাটলার। এ সব বিষয়ে ফেডারেশন বাটলারকে কিছুই বলার সাহস দেখায় না, সেখানে এশিয়া কাপ পরিকল্পনা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করা তো অকল্পনীয়।

SN
আরও পড়ুন