ঢাকা
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
ই-পেপার

আত্মীয় হারানোর শোক নিয়ে ফ্ল্যামেঙ্গোকে জেতালেন এই ব্রাজিলিয়ান

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৪৮ এএম

প্রথম ব্রাজিলিয়ান ক্লাব হিসেবে চতুর্থবারের মতো কোপা লিবার্তাদোরেস শিরোপা জিতেছে ফ্ল্যামেঙ্গো। দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনালে আজ আরেক ব্রাজিলিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী পালমেইরাসকে ১–০ গোলে হারিয়েছে তারা।

পেরুর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে শিরোপা নির্ধারণী গোলটি করেন দানিলো। কর্নার থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করেন এই ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক। এই গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।

ভিন্ন এক কারণেও দানিলোর জন্য এই মুহূর্তটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ম্যাচের আগের দিনই নিজের আন্টিকে হারান তিনি। এই শোক সামলেই মাঠে নেমেছিলেন দানিলো এবং দলকে এনে দেন ট্রফি জেতানো গোলটিও।

ম্যাচ শেষে পরিবারকে গোল উৎসর্গ করে সাবেক জুভেন্টাস রাইটব্যাক দানিলো বলেছেন, ‘সবাই জানে আমি ফ্ল্যামেঙ্গোর সমর্থক এবং আমি (ইউরোপ থেকে) ফিরে এসে এই ক্লাবের হয়ে খেলতে কতটা মুখিয়ে ছিলাম। এই জয়টা বিশেষ। আমার আন্টি গতকাল মারা গেছেন। আমার বাবাকে (পেরু থেকে) সেখানে ফিরে যেতে হয়েছে। তিনিও ফ্ল্যামেঙ্গো সমর্থক। আমি এই জয়টা তাকে এবং আমার পুরো পরিবারকে উৎসর্গ করতে চাই।’

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা এই ফুটবলার আরও যোগ করে বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি যে এমন বড় কোনো ফাইনালে খেলব। যদিও আমি সব সময়ই অনেক দূর যাওয়ার কথা কল্পনা করতাম। ড্রেসিংরুমে আমি বলেছিলাম, আমাদের সবারই এমন কিছু ত্যাগ আছে, যা কেউ দেখে না। আমি সবাইকে বলেছি নিজেদের ত্যাগটা মনে রাখতে।’

দানিলো ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও গোল করার আগপর্যন্ত ভালো অনুভব করছিলেন না বলে জানান তিনি। শিরোপা জেতানো গোলের পাশাপাশি তিনি ম্যাচের শেষ দিকে ভিতর রকির একটি শটও থামিয়ে দেন। বক্সের ভেতরে রকি তখন পালমেইরাসকে সমতা ফেরানোর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে দানিলোর কারণে শেষ পর্যন্ত পারেননি। ফলে পালমেইরাসের আর ম্যাচেও ফেরা হয়নি।

এটি দানিলোর দ্বিতীয় কোপা লিবার্তাদোরেস শিরোপা। এর আগে ২০১১ সালে তিনি এই শিরোপা জিতেছিলেন সান্তোসের হয়ে। পেনারোলের বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ২–১ গোলে জেতা সেই ম্যাচের দ্বিতীয় লেগে গোল করেছিলেন দানিলো। অন্য গোলটি ছিল নেইমারের।

এবার সেই দানিলোর নৈপুণ্যেই ২০২২ সালের পর আবার লিবার্তাদোরেস জিতল ফ্ল্যামেঙ্গো। পাশাপাশি এর ফলে টানা সাত আসর ধরে দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের এই প্রতীক ব্রাজিলের দখলেই থাকল। ব্রাজিলের বাইরে আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভার প্লেট ২০১৮ সালে সর্বশেষ এই ট্রফি জিতেছিল।

AHA
আরও পড়ুন