আবুধাবি টেস্টে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকসহ ফাইফার

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫ এএম

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে বল হাতে দুর্দান্ত দিন কাটিয়েছেন হাসান মাহমুদ। হ্যাটট্রিকসহ নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ, নতুন বলে কার্যকর সুইং আর ধারাবাহিক বোলিংয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।

 

তার এই উন্নতিতে মুগ্ধ শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার পারভেজ মাহরুফের চোখে, ধীরে ধীরে বাংলাদেশের এক নম্বর পেসার হয়ে উঠছেন হাসান। এমন মন্তব্য তিনি করেছেন বুঝেশুনেই।

 

২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকেই তাকে দেখছেন মাহরুফ। তখন গতি ছিল, আগ্রাসনও ছিল; কিন্তু বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ ছিল তুলনামূলক কম। সময়ের সাথে সেই জায়গাতেই সবচেয়ে বড় উন্নতি করেছেন হাসান।

 

মাহরুফ বলেন, ‘আজ হাসানের বোলিংয়ের যে স্পেল, সেটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলার সময় থেকে আমি তাকে দেখছি। ধীরে ধীরে সে যে জায়গাটায় উন্নতি করেছে, সেটা হলো বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ।’

 

২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ সংস্করণে অভিষেক হয় হাসানের। এরপর লাইন-লেংথের ওপর আরও মনোযোগী হয়েছেন তিনি। মাহরুফের মতে, এই ধারাবাহিকতাই তাকে দেশের সেরা পেসার হওয়ার পথে এগিয়ে দিয়েছে।

 

‘শুরুতে সে ঘণ্টায় ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করত, আরও দ্রুত ছিল, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ কম ছিল। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে অভিষেকের পর থেকে সে লাইন ও লেংথের ওপর বেশি মনোযোগী হয়েছে। আমার কাছে সে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের এক নম্বর পেসার হয়ে উঠেছে,’ বলেন মাহরুফ।

 

নিজের সাফল্যের ব্যাখ্যায় হাসানের কথা অবশ্য বেশ সাদামাটা। বাড়তি কিছু করার চেষ্টা নয়, বরং পরিকল্পনায় অটল থাকাই তার মূলমন্ত্র। আফগানদের বিপক্ষে সেই পরিকল্পনা ছিল স্টাম্প বরাবর বল করা এবং বলকে নিজের কাজটা করতে দেওয়া।

 

দিনশেষে নিজের সাফল্য নিয়ে হাসান বলেন, ‘আমি শুধু সোজা বল করতে চেয়েছি। এটাই। বলকে তার কাজ করতে দিতে চেয়েছি। তাই স্টাম্প টু স্টাম্প বোলিং করে গেছি। বাকিটা বল নিজেই করেছে।’

 

নতুন বল হাতে তার আরেকটি লক্ষ্য ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে সুইং আদায় করা। সামান্য অ্যাঙ্গেল তৈরি করে বলকে পিচে আঘাত করানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। তাতেই একের পর এক ব্যাটারকে চাপে ফেলেছেন এই পেসার।

 

হ্যাটট্রিকের শেষ উইকেটটিও এসেছে দলীয় সিদ্ধান্তে। বল স্টাম্পে লাগবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও লিটন দাস ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর পরামর্শে রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই এনে দেয় হ্যাটট্রিকের পূর্ণতা।

 

হাসানের কাছে মুহূর্তটি ছিল বিশেষ। ‘এটা অসাধারণ অনুভূতি। প্রথম ইনিংসে আমরা কয়েকটি ডিআরএস নিয়েছিলাম। তাই সবাই ভাবছিলাম, এবার বলটি স্টাম্পে লাগবে কি না। লিটন দাস ও অধিনায়ক বলছিলেন যে, বলটি স্টাম্পে লাগবে, আমরা রিভিউ নিতে পারি।’

 

হ্যাটট্রিকের পথে সতীর্থদের সমর্থনও আলাদা করে মনে রেখেছেন হাসান। শেষ বল পর্যন্ত দলের সবাই তাকে উৎসাহ দিয়েছেন—যা তার কাছে এই কীর্তির আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

এখন সামনে আরও বড় পরীক্ষা। দেশের মাটিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও টেস্ট খেলার অপেক্ষায় হাসান। আবুধাবির সাফল্য তাই তার জন্য শুধু একটি দুর্দান্ত দিন নয়, বরং আরও বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের পথেও গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ।

 

হাসানের নিজের কথায়, ‘আমি এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই। সামনে দেশের মাটিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ আছে, এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট খেলতে যাব। সামনে বড় বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।’

এইচএন
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত