১৯ শতকের শিল্পকর্মে লুকিয়ে আছে বেদনাদায়ক রহস্য

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

ঊনবিংশ শতাব্দীর এক অসাধারণ প্রেমের চিত্রকর্ম নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে। আইরিশ শিল্পী ফ্রেডেরিক উইলিয়াম বার্টন–এর আঁকা বিখ্যাত চিত্রকর্ম দ্য মিটিং অন দ্য টারেট স্টেয়ার্স এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছবিকে ঘিরে বহু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দর্শকদের অনেকেই এটিকে 'শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত' কিংবা 'জীবন বদলে দেওয়া শিল্পকর্ম' বলে বর্ণনা করছেন।

১৮৬৪ সালে আঁকা এই চিত্রে রাজকন্যা হেলেলিল এবং তার প্রেমিক হিলডেব্রান্ডের শেষ দেখা দেখানো হয়েছে। গল্প অনুযায়ী, হিলডেব্রান্ড রাজকন্যার দেহরক্ষী ছিলেন এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু রাজকন্যার পিতার আদেশে শেষ পর্যন্ত এই প্রেমের করুণ পরিণতি ঘটে।

এই চিত্রকর্মের অনুপ্রেরণা এসেছে মধ্যযুগের একটি ড্যানিশ লোকগাথা থেকে, যা বার্টনের বন্ধু অনুবাদ করেছিলেন। সেই কাহিনিতে রাজকন্যা হেলেলিল তার প্রেমিকের মৃত্যুর আগে শেষবারের মতো দেখা করার ঘটনাটি বর্ণনা করেন।

এই ছবির বিশেষত্ব শুধু গল্পে নয়, এর উপস্থাপনাতেও। চিত্রটিতে উজ্জ্বল নীল ও লাল রঙের ব্যবহার এবং দুই চরিত্রের আবেগময় ভঙ্গি দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে। বিখ্যাত সাহিত্যিক জর্জ এলিয়ট একসময় এই চিত্রকর্ম সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন যে শিল্পী একটি সাধারণ দৃশ্যকে অসাধারণ আবেগে উন্নীত করেছেন।

বর্তমানে এই চিত্রকর্মটি সংরক্ষিত আছে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন–এ অবস্থিত ন্যাশনাল গ্যালারি অব আয়ারল্যান্ড–এ।

তবে এই ছবিটি সবার জন্য সব সময় দেখা যায় না। কারণ এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল জলরঙ ও গৌয়াশ রঙে আঁকা, যা আলোতে দ্রুত নষ্ট হতে পারে। তাই ছবিটি সংরক্ষণের জন্য জাদুঘর কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।

প্রতি সপ্তাহে মাত্র দুই ঘণ্টা দর্শকদের সামনে এই চিত্রকর্ম প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনের সময়ও আলো খুব কম রাখা হয়, যাতে রঙের ক্ষতি না হয়। সময় শেষ হলে কর্মীরা বিশেষভাবে তৈরি একটি কেবিনেটে ছবিটি আবার সংরক্ষণ করে রাখেন।

চিত্রটির পায়ের কাছে সাদা গোলাপের পাপড়িও দেখা যায়, যা পবিত্রতা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। শিল্পবিশারদদের মতে, ছবিতে হিলডেব্রান্ড মৃত্যুর মুখোমুখি হলেও সেই মুহূর্তে প্রেমিক-প্রেমিকা এক অনন্ত আবেগের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আছেন।

এই কারণেই শতাধিক বছর পরও এই চিত্রকর্ম মানুষের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে চলেছে। এমনকি আয়ারল্যান্ডে অনেক যুগল এই ছবির সামনে দাঁড়িয়ে বিয়ের প্রস্তাবও দেন।

সূত্র: বিবিসি

AS/AHA
আরও পড়ুন