ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি নৌযানে হামলা চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রশাসনের মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে চালানো এ হামলা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইউএস সাউদার্ন কমান্ড। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নৌযানটি মাদক পাচারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। এতে চারজনকে ‘নারকো-সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে প্রথমে একটি চলন্ত নৌযান এবং পরে বিস্ফোরণ বা আলোর ঝলকানি দেখা যায়। তবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, নৌযানটি ক্যারিবীয় অঞ্চলের পরিচিত মাদক পাচারের রুটে চলাচল করছিল।
তবে নৌযানটিতে মাদক ছিল—এমন কোনো প্রমাণ মার্কিন কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।
এ হামলার মধ্য দিয়ে প্রায় এক বছর ধরে চলা মার্কিন সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হিসাবে, গত এক বছরে ৬৮টি হামলায় অন্তত ২২৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের হামলা একসঙ্গে হিসাব করে রয়টার্সের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ২১০ ছাড়িয়েছে।
মঙ্গলবারের হামলার আগে সপ্তাহান্তে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে আরেকটি মার্কিন হামলায় দুজন নিহত হন। দুই মাসেরও বেশি সময়ের বিরতির পর সেটিই ছিল ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রথম হামলা।
মানবাধিকার সংগঠনের সমালোচনা
মার্কিন অভিযানের বৈধতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তকারীদের মতে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে এবং এগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল।
তাদের মূল আপত্তি হলো, যাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে তারা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত—এমন দাবির পক্ষে মার্কিন প্রশাসন প্রকাশ্যে পর্যাপ্ত প্রমাণ দিচ্ছে না।
কেন এই হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সক্রিয় মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে একটি ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ জড়িয়ে পড়েছে। তাঁর প্রশাসনের ভাষ্য, মাদক পাচার দমন এবং এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের প্রাণহানি কমাতেই এসব সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে যেসব ব্যক্তিকে মাদক পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত করে হত্যা করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ এখনো প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।
এদিকে অভিযান আরও বিস্তৃত হচ্ছে। চলতি মাসে পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথ জানান, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাস নিজ নিজ ভূখণ্ডে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে গুয়াতেমালা এ ধরনের কোনো চুক্তি হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।
এর আগে গত মার্চে ইকুয়েডরও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই ধরনের যৌথ অভিযান শুরু করে।
ফলে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। তবে এতে মাদক পাচার কতটা কমছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব প্রাণঘাতী অভিযান কতটা বৈধ—তা নিয়ে বিতর্কও সমান্তরালে বাড়ছে।
ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
’জশনে জুলুসের বিরোধিতাকারীদের মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন’
রাশিয়ায় সিআইএ প্রধানের বৈঠক নিয়ে চাঞ্চল্য
চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে