বর্তমান সময়ে ইয়ারফোন, স্মার্টওয়াচ কিংবা পোর্টেবল স্পিকার ব্যবহারের সুবিধার্থে আমরা অনেকেই স্মার্টফোনের ব্লুটুথ সবসময় অন রাখি। কিন্তু এই ছোট একটি অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবসময় ব্লুটুথ চালু রাখা কেবল ব্যাটারিই খরচ করে না, বরং এটি সাইবার অপরাধীদের জন্য আপনার ফোনে প্রবেশের একটি সহজ পথ তৈরি করে দেয়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ব্লুটুথের মাধ্যমে এই ডিজিটাল জালিয়াতিকে ‘ব্লুজ্যাকিং’ বলছেন। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন বা শপিং মলের মতো জনাকীর্ণ স্থানে হ্যাকাররা সক্রিয় থাকে। তারা প্রথমে লক্ষ্যবস্তু করা ফোনে একটি 'পেয়ারিং রিকোয়েস্ট' বা সংযোগ স্থাপনের অনুরোধ পাঠায়। ব্যবহারকারী যদি ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত সেই রিকোয়েস্ট গ্রহণ করেন, তবে মুহূর্তেই হ্যাকাররা ওই ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যেতে পারে। এর মাধ্যমে আপনার ব্যক্তিগত গ্যালারি, পাসওয়ার্ড, এমনকি ব্যাংকিং তথ্যের নিয়ন্ত্রণও চলে যেতে পারে অপরাধীদের হাতে।
সুরক্ষিত থাকতে করণীয়:
স্মার্টফোন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:
১. প্রয়োজন শেষে বন্ধ রাখা: ব্লুটুথ ডিভাইসের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ফোনের ব্লুটুথ অপশনটি বন্ধ করে দিন। এটি আপনাকে অদৃশ্য রাখতে সাহায্য করবে।
২. অদৃশ্য (Non-discoverable) মোড: ব্লুটুথ সেটিংস থেকে ‘নন-ডিসকভারেবল’ বা অদৃশ্য মোডটি চালু রাখুন, যাতে অপরিচিত কেউ আপনার ডিভাইসটি খুঁজে না পায়।
৩. অপরিচিত সংযোগ এড়িয়ে চলা: অচেনা কোনো ডিভাইস থেকে পেয়ারিং রিকোয়েস্ট এলে তা সাথে সাথে বাতিল করুন।
৪. ফাইল শেয়ারিং সীমিত করা: অপরিচিত কারো কাছ থেকে ব্লুটুথের মাধ্যমে কোনো ফাইল গ্রহণ করার অপশনটি বন্ধ রাখুন।
৫. নিয়মিত আপডেট: ফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে অপারেটিং সিস্টেম এবং সিকিউরিটি প্যাচ নিয়মিত আপডেট করুন।
প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামান্য সচেতনতাই আপনাকে ব্লুজ্যাকিং-এর মতো বড় সাইবার জালিয়াতি থেকে রক্ষা করতে পারে।

