গত কয়েক দশকের মধ্যে নিজেদের সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে চীন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দেশটির পার্লামেন্ট ‘ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস’ (এনপিসি) এর বার্ষিক অধিবেশনে ২০২৬ সালের জন্য ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই সংযত লক্ষ্যমাত্রা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে চীনের প্রিমিয়ার লি ছিয়াং স্বীকার করেছেন যে, দেশটি বর্তমানে একটি ‘গুরুতর ও জটিল পরিস্থিতির’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাইরের প্রতিকূলতা এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সমস্যাগুলো একীভূত হয়ে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। গত কয়েক বছর ধরে চলা আবাসন খাতের সংকট, বিনিয়োগ হ্রাস এবং গ্রাহকদের খরচ করার প্রবণতা কমে যাওয়া (ডিফ্লেশন) চীনের প্রবৃদ্ধির গতি ধীর করে দিয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হলেও উচ্চ-প্রযুক্তি খাতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর বেইজিং। লি ছিয়াং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর এবং রোবোটিক্সের মতো খাতগুলোকে বিশ্বমানের বলে দাবি করেন। এই লক্ষ্য অর্জনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের বাজেটে ১০ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উদ্ভাবনের মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে মাথাপিছু জিডিপি দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে চীনের।
অর্থনৈতিক মন্দার ছায়া পড়েনি চীনের সামরিক বাজেটে। ২০২৬ সালের জন্য প্রতিরক্ষা বাজেট ৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তাইওয়ান ইস্যুতে লি ছিয়াং তার বক্তব্যে আগের চেয়ে কঠোর সুর ব্যবহার করে বলেন, ‘তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে লড়াই করবে চীন।’
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের এই শীর্ষ সম্মেলনে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং তাইওয়ান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও চীন নিজেদের স্থিতিশীল ও সহনশীল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
জ্বালানি তেলের দাম ছাড়াতে পারে ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার
বিশ্ববাজারে বেড়েছে সোনার দাম, বাড়তে পারে দেশেও
