সোনার দামে বড় পতন

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ধরণের পতন দেখা গেছে। টানা চার দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কাটিয়ে হঠাৎ করেই দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নিচে নেমে এসেছে মূল্যবান এই ধাতু।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গোল্ড স্পট মার্কেটে সোনার দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশের বেশি কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬২২ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে পতনটি ৪ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৪৯ ডলারে নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ভাষণেই টালমাটাল হয়ে পড়েছে সোনার বাজার। এক বিশেষ ভাষণে ট্রাম্প জানান, ইরানের ওপর হামলা আরও আগ্রাসী হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের একদম কাছাকাছি পৌঁছেছে। যারা আশা করেছিলেন যে যুদ্ধবিরতি হবে, তাদের সেই আশায় জল ঢেলে দেওয়ার ফলেই বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।

ক্যাপিটাল ডট কমের সিনিয়র বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, ‘ট্রাম্পের ভাষণ এবং সপ্তাহান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম ও মার্কিন ডলারের মান বেড়ে গেছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় এবং সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় স্বাভাবিকভাবেই সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।’

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সোনার বাজার বড় ধরণের অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সদ্য বিদায়ী মার্চ মাসে সোনার দাম মোট ১১ শতাংশ কমেছে, যা ২০০৮ সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় মাসিক পতনের রেকর্ড।

এদিকে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ইঙ্গিত দেওয়ায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। বর্তমানে ২০২৬ সালের বেশিরভাগ সময়জুড়েই যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, যা সোনার মতো অনুৎপাদনশীল সম্পদের আকর্ষণ কমিয়ে দিচ্ছে।

সাধারণত রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চ সুদের হার ও শক্তিশালী ডলারের কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন অন্য পথে হাঁটছেন।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে অন্যান্য ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভারের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমে ৭১ দশমিক ০৭ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯০২ দশমিক ৬৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৪৬ দশমিক ৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

FJ
আরও পড়ুন