দেশের রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে পৌঁছেছে। বর্তমানে এর পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০,৩৬৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রমের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। একই সময়ে দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫,০৩৮ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈদেশিক মুদ্রার এই উন্নত অবস্থান মূলত রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার সরবরাহ স্থিতিশীল থাকার ফল।

রিজার্ভ বাড়ার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। চলতি (এপ্রিল) মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে এসেছে ১ দশমিক ৬০৭ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ১ দশমিক ২৮৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২৫ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। শুধু ১৩ ও ১৪ এপ্রিল এই দুদিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ১৭১ মিলিয়ন ডলার, যা রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিশালী ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।

চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৮১৬ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২৩ দশমিক ০৬৯ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা দেশের বৈদেশিক খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনছে। বিশেষ করে গত মার্চে রেকর্ড ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহ এই ধারা আরও শক্তিশালী করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, বৈধ চ্যানেলে প্রণোদনা এবং ডলার বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা—এই তিনটি কারণ রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি রমজান ও ঈদ ঘিরে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতাও বেড়েছে।

YA/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত