কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা 

একক গ্রুপকে আরও বেশি ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক  

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকগুলো এখন থেকে কোনো একক ঋণগ্রহীতা বা শিল্প গ্রুপকে তাদের মোট মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে। এর আগে এই ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১৫ শতাংশ। নতুন এই নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ব্যবসায়িক অর্থায়নের ওপর বিদ্যমান চাপ কমাতে ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণের দুটি বড় বিধিনিষেধ শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকগুলো এখন থেকে বড় ঋণগ্রহীতাদের আরও বেশি ঋণ দিতে পারবে এবং তাদের ট্রেড ফাইন্যান্স বা বাণিজ্য অর্থায়ন কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকগুলো এখন থেকে কোনো একক ঋণগ্রহীতা বা শিল্প গ্রুপকে তাদের মোট মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে। এর আগে এই ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১৫ শতাংশ। নতুন এই নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ঋণের আগের এই ১৫ শতাংশের সীমাটি ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ আগামী চার বছর ব্যাংকগুলো বড় গ্রুপগুলোকে এই বর্ধিত হারে ঋণ দেওয়ার সুযোগ পাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী এবং ট্রেডিং হাউজগুলোর একক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

উদাহরণস্বরূপ, ১,০০০ কোটি টাকা মূলধন আছে এমন একটি ব্যাংক আগে কোনো একটি ঋণগ্রহীতা গ্রুপকে সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারত। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এখন সেই ঋণের সীমা বেড়ে ২৫০ কোটি টাকা হবে।

অন্য এক বড় শিথিলতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক একক ঋণগ্রহীতা সীমা গণনার ক্ষেত্রে 'নন-ফান্ডেড' ঋণের (যেমন: এলসি বা লেটার অফ ক্রেডিট এবং গ্যারান্টি) ওপর ঝুঁকি-ভার কমিয়ে এনেছে।

২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো তাদের ঋণসীমা গণনার ক্ষেত্রে এই ধরনের সুবিধার মোট মূল্যের মাত্র ২৫ শতাংশ গণনা করবে, যা আগে ছিল ৫০ শতাংশ।

এই পরিবর্তনের ফলে ট্রেড ফাইন্যান্স কার্যক্রমে ব্যাংকগুলোর বড় ধরনের সক্ষমতা তৈরি হবে। এর ফলে ব্যাংকগুলো ঋণের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন না করেই আরও সহজে আমদান-রপ্তানি এলসি খুলতে পারবে।

যেমন, আগে ১০০ কোটি টাকার একটি এলসি খুললে ব্যাংকের একক ঋণগ্রহীতা সীমার ৫০ কোটি টাকা ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধরা হতো। এখন সেখানে মাত্র ২৫ কোটি টাকা গণনা করা হবে। ফলে একই সীমার মধ্যে ব্যাংকগুলো এখন আগের চেয়ে দ্বিগুণ এলসি খোলার সুযোগ পাবে।

ব্যাংকাররা বলছেন, এই শিথিলতা সেসব ব্যবসায়ীদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দেবে যারা বড় অঙ্কের অর্থায়ন পেতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা এবং বাণিজ্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকদের যে অতিরিক্ত চলতি মূলধনের প্রয়োজন হচ্ছিল, তা মেটানো এখন সহজ হবে।

তবে কিছু ব্যাংকার সতর্ক করে দিয়েছেন যে, একক ঋণগ্রহীতা সীমা বাড়ানোর ফলে ব্যাংকের ঝুঁকি কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বড় কোনো কর্পোরেট গ্রুপ ঋণখেলাপি হলে তার প্রভাব সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর আগের চেয়ে বেশি পড়ার ঝুঁকি থাকে।

উল্লেখ্য, বড় শিল্প গ্রুপগুলোর মধ্যে ঋণের অতি-কেন্দ্রীভূতকরণ কমাতে ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একক ঋণগ্রহীতা সীমা সংক্রান্ত নিয়মগুলো কঠোর করেছিল।

AHA
আরও পড়ুন