আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। একই সঙ্গে বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোর পুনর্বিন্যাস এবং নতুন কয়েকটি কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে দরিদ্র, নিম্নআয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির জন্য প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৪.৪ শতাংশ বেশি। প্রস্তাবিত বরাদ্দ দেশের মোট জিডিপির প্রায় ২.১ শতাংশ এবং মোট বাজেটের প্রায় ১৬ শতাংশের সমান।
কর্মসূচির সংখ্যা কমলেও বাড়ছে দরিদ্রবান্ধব ব্যয়
বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৯৫টি কর্মসূচি থাকলেও আগামী অর্থবছরে তা কমিয়ে ৯০টিতে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সরকার জানিয়েছে, কর্মসূচির সংখ্যা কমানো হলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া কর্মসূচির পরিধি ও অর্থায়ন বৃদ্ধি পাবে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৪৫টি কর্মসূচি সরাসরি দরিদ্রবান্ধব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৫৫ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা চলতি অর্থবছরের প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
একই ব্যক্তি একাধিক কর্মসূচি থেকে সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে উপকারভোগীদের তথ্যসমৃদ্ধ একটি সমন্বিত জাতীয় ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন ছয়টি কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা
নতুন অর্থবছরে কয়েকটি নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব রয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি: দেশব্যাপী এক কোটি পরিবারের ওপর জরিপ পরিচালনার পর ৪১ লাখ পরিবার নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে পাবে। এ খাতে সম্ভাব্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। এই সুবিধাভোগীরা অন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় থাকবেন না।
ফার্মার্স কার্ড কর্মসূচি: প্রায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে বছরে এককালীন ২,৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের পরিবারের জন্য ভাতা: আহত ব্যক্তিদের আঘাতের মাত্রা অনুযায়ী মাসিক ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা এবং নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা: ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, ভিক্ষু ও বিভিন্ন উপাসনালয়ের তত্ত্বাবধায়কসহ মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৬৬ জনকে মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভিজিএফ সহায়তা: প্রায় ১৫ লাখ নিম্নআয়ের কর্মজীবী মানুষকে খাদ্য সহায়তার সমপরিমাণ নগদ অর্থ দেওয়া হবে।
বেকার ভাতা কর্মসূচি: ১৫ হাজার বেকার শ্রমিক সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।
বিদ্যমান কর্মসূচিতে পরিবর্তন
বয়স্ক ও বিধবা ভাতা: উভয় কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ করে বাড়ানো হবে। মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রতিবন্ধী ভাতা: উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ বৃদ্ধি করে ৩৮ লাখে উন্নীত করা হবে। মাসিক ভাতা ৯০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা উপবৃত্তি ১,০০০ টাকা থেকে ১,৪০০ টাকায় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি: উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও মাসিক ভাতা ৮৫০ টাকা অপরিবর্তিত থাকবে।
জটিল রোগের চিকিৎসা সহায়তা: ক্যানসার, কিডনি ও লিভার রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭০০ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। রোগীপ্রতি সর্বোচ্চ সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকায় উন্নীত হতে পারে।
মুক্তিযোদ্ধা ভাতা: সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতায় পরিবর্তন না এলেও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ৫,০০০ টাকা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব রয়েছে।
পৃথক পরিকল্পনা দলিল প্রকাশ
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ১১ জুন মূল বাজেট উপস্থাপনের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা খাতের জন্য একটি পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা সম্বলিত পৃথক দলিল প্রকাশ করা হবে। এতে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, বাস্তবায়ন কৌশল এবং উপকারভোগী ব্যবস্থাপনার রূপরেখা তুলে ধরা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক, সমন্বিত এবং কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তোফায়েল-দরুদ্দীন উমর ও রামিসার মৃত্যুতে সংসদে শোক
এমপিরা উন্নয়ন তহবিল সরাসরি পাবেন না, আসছে নতুন ব্যবস্থা
বাজেট উপস্থাপন নতুন সরকারের ১১ জুন
মন্ত্রীকে স্পিকারের পরামর্শ ‘প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে স্টাডি করে নেবেন’