বৈধ পথে রেমিট্যান্সের জোয়ার, দেশের রিজার্ভে স্বস্তি

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ এএম

দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়ে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ২০২৫ সালের জুলাই থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সর্বমোট ৩৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ঠিক একই সময়ে দেশে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ, যা অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক।

ব্যাংকিং খাতের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রবাসীরা এখন হুন্ডি বা অবৈধ পথ পরিহার করে বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠাতে অনেক বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন। কেবল ২০২৬ সালের ১৫ জুন—এই একটি দিনেই বৈধ ব্যাংকিং মাধ্যমের সাহায্যে প্রবাসীরা ৮২ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। একক দিনে বিপুল পরিমাণ এই বৈদেশিক মুদ্রা আসা দেশের রিজার্ভ গঠনে প্রবাসীদের নিরবচ্ছিন্ন অবদানেরই বহিঃপ্রকাশ।

চলতি জুন মাসের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের এই চাঙ্গা ভাব স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাসের প্রথম ১৫ দিনেই দেশে মোট ১ হাজার ৬২৩ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স আহরণে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

SN
আরও পড়ুন