চাকরিচ্যুত হলেন এনবিআরের প্রথম সচিব তানজিনা

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (মূল্য সংযোজন কর পরিবীক্ষণ ও করদাতা সেবা) তানজিনা রইসকে অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই এই নারী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর তানজিনা রইসকে এক মাসের অর্জিত ছুটি মঞ্জুর করা হয় এবং থাইল্যান্ড ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে ছুটি ভোগ শুরু করেন। তবে নির্ধারিত সময় শেষে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়।

জবাবে তিনি ই-মেইলে জানান, ছুটির মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর জন্য আগে থেকেই আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানায়, বিধি অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন না করায় তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ৪ মার্চ তার ছুটি বাড়ানোর আবেদন নামঞ্জুর করে অবিলম্বে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি।

দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করার ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অনুমতি ছাড়া ৬০ দিনের বেশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি লিখিত জবাব না দেওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এরপর দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হলেও সাত কার্যদিবসের মধ্যেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের এই কর্মকর্তার স্বামী অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ২০১৮ সালে তিনি সরকারি অনুমোদনে শিক্ষা ছুটিতে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন করতে যান। ২০২০ সালে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেন।

পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সন্তানের চিকিৎসার জন্য তাকে ১৫ দিনের ছুটি মঞ্জুর করে থাইল্যান্ড যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেখান থেকে দেশে না ফিরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান এবং আর কর্মস্থলে ফিরে আসেননি। অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

AHA
আরও পড়ুন