এক হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি কতোটা যৌক্তিক?

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

বাংলাদেশে এক হাজার টাকার নোটের বৈধতা বাতিল এবং স্বর্ণ, রুপা ও প্রধান রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার সমপরিমাণ রিজার্ভের সমর্থন ছাড়া কাগুজে মুদ্রা ছাপানো বন্ধের দাবি উঠেছে। এ দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ বিভাগের সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে উকিল নোটিস পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। এরআগে একই বিষয়ে সংসদেও এসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পাঠানো উকিল নোটিসে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত সম্পদ বা রিজার্ভের সমর্থন ছাড়া অর্থ সরবরাহ বাড়ালে টাকার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমতে পারে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। ১৫ দিনের মধ্যে নোটিসের জবাব না পেলে হাইকোর্টে রিট করার কথাও জানিয়েছেন নোটিসদাতা আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।

অর্থনীতির দৃষ্টিতে বিষয়টি কেবল ‘নোট ছাপানো’ বনাম ‘রিজার্ভ’ এই সরল সমীকরণে সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক অর্থনীতিতে অর্থ সরবরাহের বড় অংশই কাগজের নোট ছাপানোর মাধ্যমে তৈরি হয় না; ব্যাংকিং ব্যবস্থার ঋণ সৃষ্টি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম, সরকারি ঋণ এবং বৈদেশিক সম্পদের পরিবর্তনও অর্থ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে উকিল নোটিসের দাবির পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান অর্থ সরবরাহ, সরকারি ঋণ, রিজার্ভ ও মূল্যস্ফীতির বাস্তব চিত্রও আলোচনায় এসেছে।

উকিল নোটিসে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে এক হাজার টাকার নোটের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে সীমিত। বরং উচ্চ মূল্যমানের নোট দুর্নীতির অর্থ, অবৈধ সম্পদ, কর ফাঁকি ও ছায়া অর্থনীতিতে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে; এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। নোটিসে ভারতের দুই হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের ঘটনাকেও উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, উচ্চ মূল্যমানের নোট প্রত্যাহার করলে নগদে রাখা অঘোষিত অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফেরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এক হাজার টাকার নোট বাতিল করলেই দুর্নীতি বা অবৈধ অর্থ বন্ধ হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং নোট প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের লেনদেন, ব্যাংকের নগদ ব্যবস্থাপনা, ছোট ব্যবসা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর কী প্রভাব পড়বে, সেটিও বিবেচনার বিষয়। এর আগে চলতি বছরের জুনে সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনও ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার প্রস্তাব ছিল, মানুষকে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে এসব নোট ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং এর মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নগদ অর্থ ফিরিয়ে আনা।

অর্থাৎ এক হাজার টাকার নোট নিয়ে আলোচনা নতুন নয়; তবে এবার বিষয়টি উকিল নোটিসের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য পর্যায়ে এসেছে। উকিল নোটিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো- স্বর্ণ, রুপা ও প্রধান রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার সমপরিমাণ রিজার্ভের সমর্থন ছাড়া নতুন টাকা সৃষ্টি বা প্রচলন বন্ধ করা। এখানে আধুনিক মুদ্রাব্যবস্থার একটি মৌলিক বিষয় বোঝা জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশের টাকা পূর্ণ স্বর্ণমানের মুদ্রা নয়। অর্থাৎ প্রতিটি টাকার বিপরীতে সমপরিমাণ স্বর্ণ বা ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে রাখা আছে এমন ব্যবস্থা বাংলাদেশে নেই।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি মূলত মূল্যস্থিতি, অর্থ সরবরাহ, সুদের হার, ব্যাংকিং ব্যবস্থার তারল্য ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ওপর পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ মুদ্রানীতি বিবৃতিতেও অর্থ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, সুদের হার ও তারল্য ব্যবস্থাপনাকে মুদ্রানীতির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্রড মানি বা বিস্তৃত অর্থ সরবরাহ ১১ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ২৪ লাখ ১৬ হাজার ২৮৬ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। বিশেষ করে সরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এই পরিসংখ্যানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধির পেছনে শুধু নতুন নোট ছাপানোকে দায়ী করা যায় না। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি ঋণ সৃষ্টি, আমানত এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ-দায় কাঠামোও অর্থ সরবরাহকে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জুন শেষে সরকারি খাতে ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা, যা এক বছর আগের তুলনায় ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি। FY26-এ সরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা।

অন্যদিকে একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল। অর্থাৎ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সরকারি ঋণের সম্প্রসারণ তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও উৎপাদনশীল বেসরকারি খাতে ঋণের গতি দুর্বল। অর্থনীতিবিদদের কাছে এ পরিস্থিতির একটি বড় উদ্বেগ হলো crowding out, সরকারের ঋণের চাহিদা বেড়ে গেলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রাপ্তি কঠিন বা ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।

চলতি বছরের জুনে এক বিশ্লেষণে বলা হয়, জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ১০২ কোটি টাকা ধার করেছে, যা FY26-এর পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার চেয়েও বেশি। একই সময়ে বেসরকারি খাতের ঋণ বৃদ্ধিও দুর্বল ছিল। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

‘টাকা ছাপানো’ কথাটি সাধারণ আলোচনায় সাধারণত নতুন নোট ছাপানোর অর্থে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু অর্থনীতিতে monetary expansion অনেক বিস্তৃত বিষয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪-২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুন ২০২৫ শেষে রিজার্ভ মানি ছিল প্রায় ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। একই সময়ে মুদ্রা বহুগুণক বা money multiplier বেড়ে ৪ দশমিক ৯২ থেকে ৫ দশমিক ২৭ হয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভিত্তিমূলের ওপর নির্ভর করে আরও বড় পরিমাণ আমানত ও অর্থ তৈরি হতে পারে।

এক হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবির পেছনে মূল্যস্ফীতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের H1FY27 মুদ্রানীতি বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে। একই নথিতে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতি একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল প্রবৃদ্ধি, আর্থিক খাতের চাপ এবং বিনিয়োগের দুর্বলতার মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই ২০২৬-এর অর্থনৈতিক সূচকেও দেখা যায়, জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে ব্রড মানি বৃদ্ধির হার ছিল ১১ দশমিক ১১ শতাংশ। তবে মূল্যস্ফীতি কেবল অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধির ফল নয়। খাদ্যপণ্যের দাম, আমদানি ব্যয়, জ্বালানি ও বৈশ্বিক পণ্যমূল্য, বিনিময় হার, সরবরাহব্যবস্থার সমস্যা এবং বাজার কাঠামো সবকিছুই এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ক্ষেত্রেও গত দুই বছরে পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য জানায়, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শুরুতে দেশের নেট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ ২৭ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এটি ছিল ১৬ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হার, বহুপক্ষীয় ঋণসহ বিভিন্ন কারণে রিজার্ভ পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই ২০২৬-এর অর্থনৈতিক পর্যালোচনাতেও বৈদেশিক খাতে উন্নতির কথা বলা হয়েছে। FY26-এ সামগ্রিক ব্যালান্স ৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্তে ছিল এবং রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। অর্থাৎ ‘রিজার্ভ নেই’ এমন সরল চিত্র বর্তমান পরিসংখ্যানের সঙ্গে মেলে না। তবে পর্যাপ্ত রিজার্ভ কত হওয়া উচিত এবং তার বিপরীতে অর্থ সরবরাহের কাঠামো কতটা নিরাপদ এটি আলাদা নীতিগত প্রশ্ন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ-এর ২০২৬ সালের বাংলাদেশ বিষয়ক মূল্যায়নে মুদ্রানীতি আরও আধুনিক করা, অস্বাভাবিক বা non-standard monetary operations ধীরে ধীরে বন্ধ করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতির নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইএমএফ-এর মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সীমিত থাকায় নতুন বিনিময় হার কাঠামো তৈরি করাও কঠিন ছিল। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্যে কঠোর নীতি বজায় রাখার কথা জানিয়েছে। এ কারণে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শুধু নোট ছাপানো নয়; বরং সরকারের ঋণ, অর্থ সরবরাহ, সুদের হার, বিনিময় হার, রিজার্ভ এবং মূল্যস্ফীতি এই পুরো ব্যবস্থার সমন্বয়।

এক হাজার টাকার নোট বাতিল হলে কী হতে পারে?
উচ্চ মূল্যমানের নোট প্রত্যাহার করলে কয়েক ধরনের প্রভাব হতে পারে। প্রথমত, ঘরে বা প্রতিষ্ঠানে নগদ হিসেবে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফেরত আসতে পারে। এতে ব্যাংকের আমানত বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। দ্বিতীয়ত, অঘোষিত নগদ অর্থের মালিকদের ব্যাংকে অর্থ জমা দেওয়ার সময় পরিচয় ও অর্থের উৎস সম্পর্কে তথ্য দিতে হতে পারে। এতে কর প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য কিছু তথ্যগত সুবিধা তৈরি হতে পারে। তৃতীয়ত, নগদ লেনদেনে সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেন, গ্রামীণ বাজার, ছোট ব্যবসা ও এমন জনগোষ্ঠী যারা এখনো ডিজিটাল লেনদেনে পুরোপুরি অভ্যস্ত নয়—তাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। চতুর্থত, শুধু নোট বাতিল করলেই অবৈধ অর্থব্যবস্থা বন্ধ হবে না। অর্থ যদি ব্যাংক হিসাব, সম্পদ, স্বর্ণ, জমি বা অন্য কোনো মাধ্যমে চলে যায়, তাহলে উচ্চ মূল্যমানের নোট প্রত্যাহার একা যথেষ্ট হবে না।

আইনজীবীর উকিল নোটিসে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী জবাব দেয় এবং এরপর হাইকোর্টে কোনো রিট করা হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তবে বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ: বাংলাদেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় কি এমন কোনো কাঠামো থাকা উচিত, যেখানে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধির সঙ্গে বৈদেশিক রিজার্ভ, উৎপাদন, রাজস্ব, সরকারি ঋণ এবং মূল্যস্ফীতির মধ্যে সুস্পষ্ট ভারসাম্য থাকবে? বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, অর্থ সরবরাহ ও সরকারি ঋণ উভয়ই বেড়েছে, কিন্তু বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে দুর্বল। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি এখনো লক্ষ্যমাত্রার ওপরে। আবার বৈদেশিক রিজার্ভও ২০২৪ সালের নিম্নস্তর থেকে পুনরুদ্ধার করেছে।

তাই এক হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি মূলত একটি বৃহত্তর বিতর্ক সামনে এনেছে- টাকার মূল্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, নগদ অর্থের অপব্যবহার কীভাবে কমানো হবে এবং অর্থ সরবরাহ কীভাবে উৎপাদন ও রিজার্ভের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হবে। এই বিতর্কে নোট বাতিলের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা, সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সবকিছুকেই একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

জেএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত