সপ্তাহে একদিন ব্যাংক বন্ধ রাখার দাবি দোকান মালিক সমিতির

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ এএম

ব্যবসায়িক লেনদেন সচল রাখা, আর্থিক ক্ষতি কমানো ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন থেকে কমিয়ে একদিন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন এ দাবি জানান। এতে দীর্ঘ ছুটির কারণে ব্যাংকিং লেনদেন ব্যাহত হওয়া এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

সমিতির বক্তব্য, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, থানা ও হাসপাতালের মতো জরুরি সেবা একটানা বন্ধ রাখা যায় না। একইভাবে আর্থিক সেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্যাংকও সপ্তাহে এক দিনের বেশি বন্ধ রাখা উচিত নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্র ও শনিবারের নিয়মিত ছুটির পাশাপাশি বিভিন্ন উপলক্ষে অতিরিক্ত ছুটি থাকায় অনেক সময় ব্যাংক টানা কয়েক দিন বন্ধ থাকে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটির দিন খোলা রেখে বৃহস্পতিবার বা রোববার ব্যাংক বন্ধ রাখায় দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়।

দোকান মালিক সমিতির দাবি, দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি এবং ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, পূজা, বড়দিনসহ বিভিন্ন সরকারি ছুটি মিলিয়ে বছরে ব্যাংক ১২০ থেকে ১৩০ দিন বন্ধ থাকে। এতে ব্যবসায়িক লেনদেন ব্যাহত হয়। সমিতির ভাষ্য, সাধারণ সময়ে ব্যবসায়ীদের ব্যাংকঋণের বিপরীতে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ সুদ দিতে হলেও দীর্ঘ ছুটির কারণে সেই ব্যয় বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে দাঁড়ায়।

সংগঠনটি আরও বলেছে, দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে এখন সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লাগে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ছুটির কারণে পর্যটন, জ্বালানি, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায় বড় অঙ্কের অর্থ আটকে থাকে। পাঁচ থেকে সাত দিনের ছুটিতে হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন ব্যাহত হয় বলে দাবি সমিতির।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ঘরে বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রাখতে বাধ্য হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে থাকেন। দীর্ঘ ছুটিতে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।

এসব বিবেচনায় দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কমাতে সপ্তাহে একদিন ব্যাংক বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।

এমইউ
আরও পড়ুন