ঈদে বাজারে সক্রিয় জাল টাকা চক্র

কীভাবে চেনা যাবে জাল নোট?

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৫, ১০:৫২ এএম

দেশে যেকোনো উৎসব আসলেই ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে জাল নোটের কারবারিদের চক্ক। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে জাল টাকা কারবারি চক্র বাজারে ইতোমধ্যে ২০ লাখ জাল নোট সরবরাহ করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। হাটবাজারে এমনকি শপিং মলে কেনাকাটার ভিড়ে জাল নোট গছিয়ে দেওয়া হয়। একশ, পাঁচশ ও এক হাজার টাকা মূল্যমানের নোট বেশি জাল হয়। 

আসুন জেনে নিই জাল টাকা চেনার উপায়...

নিরাপত্তা সুতা: ১০০, ২০০ ও ৫০০ টাকার নোটের বাঁ পাশে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ৪ মিলিমিটার, ১০০০ টাকার নোটে ৫ মিলিমিটার চওড়া অনেকটা মাথায় বেণির মতো প্যাঁচানো নকশার নিরাপত্তা সুতা আছে। ১০০, ২০০ ও ৫০০ টাকার নোটের সুতার এক অংশ ক্রমে লাল হতে হতে সবুজ রঙে পাল্টে যায়। আর অন্য অংশে ছাপানো থাকে টাকার মান। ১০০০ টাকার নোটের সুতার এক অংশ ক্রমে সোনালি থেকে সবুজ রঙে পরিবর্তন হয়। ২০০ ও ১০০০ টাকার নোটের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুতার অংশে নোটের মান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম ছাপানো আছে। নোটগুলো নাড়াচাড়া করলে হলোগ্রাফিক ইমেজের চকচকে ভাব চোখে পড়ে। নকল টাকার ক্ষেত্রে যা সম্ভব হয় না।

লুকানো ছাপার অক্ষর: ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের যে পিঠে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি আছে, তার নিচের অংশে মাঝখানে বিভিন্ন নকশার আড়ালে ১০০, ৫০০ ও ১০০০ সংখ্যাটি ছাপানো আছে। নোটটি একটু কাত করে ধরলে এসব সংখ্যার উপস্থিতি বোঝা যায়। আর ২০০ টাকার ওই অংশে ইংরেজি অক্ষরে লেখা আছে 'TWO HUNDRED TAKA'।

খুব সূক্ষ্ম ফন্টে (অক্ষরে) লেখা: ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের পেছনের পিঠের নিচের দিকে বাঁ পাশে ১০০, ৫০০ ও ১০০০ সংখ্যা মানের সঙ্গে BANGLADESH BANK লেখা আছে।

২০০ টাকার নোটের এক্কেবারে বাঁ পাশের নকশার মাঝে মাঝে অতি ছোট্ট অক্ষরে 200 লেখা আছে। তবে এতটাই সূক্ষ্ম সেই অক্ষর যে খালি চোখে দেখা মুশকিল। আতশী কাচ বা উন্নতমানের স্মার্টফোনের ক্যামেরা নোটের ওপর ধরে যথেষ্ট পরিমাণ জুম করলে দেখা সম্ভব। জুম করলেও এই সূক্ষ্ম ফন্ট ফাটবে না, কিন্তু নকল টাকার ক্ষেত্রে ফেটে যাবে।

খসখসে ভাব: খালি চোখে জাল টাকা শনাক্ত করা একটু জটিলই বটে। তবে খুব সহজ একটি উপায় হলো স্পর্শ। হাতে নিয়েই বোঝা যায়! আসল নোট কিছুটা খসখসে হয়। অন্য দিকে ছাপানো জাল টাকা মসৃণ থাকে।

লেখায় রঙের পরিবর্তন: ১০০ ও ১০০০ টাকার নোটের এদিক-ওদিক পরপর মেলে ধরলে প্রতি কোনায় থাকা সংখ্যার রং হয় সোনালি থেকে সবুজ এবং ৫০০ টাকার ক্ষেত্রে রং হয় ম্যাজেন্টা থেকে সবুজ। আবার ১০০০ টাকার নোটের পেছনে বাঁ দিকে হালকা নীলচে রঙের ইংরেজি অক্ষরে নিচ থেকে ওপরের দিকে লেখা আছে ‘BANGLADESH BANK’লেখাটি। নোটটি এদিক-ওদিক করে নেড়েচেড়ে দেখলে চোখে পড়বে তা।

স্পার্ক বা ঠিকরে পড়া আলো: ২০০ টাকার নোটে ওপরে ডান কোনায় সোনালি থেকে সবুজ রং ছড়ানো চৌম্বকীয় কালি ব্যবহার করা হয়। ফলে এদিক-ওদিক কাত করলে এটি জ্বলজ্বল করতে থাকে। একই সঙ্গে একটি উজ্জ্বল আলোর রেখা ওপর-নিচে ওঠানামা করে। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি ব্যবস্থাপনা বিভাগে এক কর্মকর্তা বলেছেন, জাল নোটের সমস্যা বাংলাদেশে এখনো প্রকট সমস্যা হয়ে ওঠেনি, তবে দুই ঈদের আগে জাল নোট চক্রের তৎপরতা বাড়ে। বিশেষ করে বড় নোটগুলো যেমন ৫০০ এবং ১০০০ টাকা মূল্যমানের জাল নোট চালানোর চেষ্টা করা হয়।

তিনি জানান, জাল নোটের তৎপরতা ঠেকানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি সরকারের কাছে নতুন একটি কঠোরতর আইনের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে জাল নোট অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।তারপরও প্রায় মানুষের হাতে জাল নোট চলে আসার ঘটনা ঘটছে এবং প্রতিমাসেই বেশ কিছু মামলাও হচ্ছে।

AHA
আরও পড়ুন