নতুনভাবে চালু হচ্ছে স্কুল ফিডিং, শিক্ষার্থীরা পাবে পুষ্টিকর খাবার

আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম

আবার নতুন উদ্যমে চালু হচ্ছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। প্রায় ২০ হাজার স্কুলের ৩২ লাখ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে পুষ্টিকর খাবার। এসব খাবারের মধ্যে থাকবে বন রুটি, সেদ্ধ ডিম, পাস্তুরিত দুধ, ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও মৌসুমি ফল। 

শিক্ষক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বছরেই এই কর্মসূচিতে গতি আসবে। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে খাবারের মানে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

শনিবার (১৬ মে) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিশেষ প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে দেশের প্রকল্পভুক্ত ১৫০টি উপজেলার সমস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে খাদ্যসামগ্রী বুঝে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের, পচা বা ত্রুটিপূর্ণ খাবার কোনো স্কুল গ্রহণ করতে পারবে না এবং তা কোমলমতি শিশুদের মাঝে বিতরণও করা যাবে না। 

যদি কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বা নষ্ট খাবার দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে প্রধান শিক্ষকরা তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করবেন এবং বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। এই তদারকি কাজে শিক্ষকদের কোনো ধরনের অবহেলা বা আপসকামিতা ধরা পড়লে তাদের বিরুদ্ধেও সমভাবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের খাদ্যের গুণগত মান ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্রধান শিক্ষকদের জন্য কিছু বাধ্যতামূলক ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাবলি দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্কুল ফিডিংয়ের জন্য সরবরাহকৃত বনরুটি সম্পূর্ণ তাজা, নরম এবং সঠিকভাবে মোড়কজাত বা প্যাকেটজাত করা কিনা তা ভালো করে পরীক্ষা করতে হবে। 

রুটির প্যাকেট কোনোভাবেই ছেঁড়া বা অক্ষত ছাড়া হতে পারবে না এবং তা সম্পূর্ণ পচন, ক্ষতিকারক ফাংগাস বা যেকোনো ধরনের দুর্গন্ধমুক্ত হতে হবে। একই সঙ্গে রুটির প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং সুনির্দিষ্ট নেট ওজন (১২০ গ্রাম) উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম বেঁধে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, সরবরাহকৃত ডিম কোনোভাবেই ফেটে যাওয়া, দুর্গন্ধযুক্ত বা পিচ্ছিল হতে পারবে না। শিশুদের দেওয়া কলা অবশ্যই দাগহীন ও সম্পূর্ণ পোকামুক্ত হতে হবে; বেশি পাকা বা পচা ও আকারে ছোট কলা কোনোভাবেই গ্রহণ করা যাবে না। 

এ ছাড়া ইউএইচটি মিল্ক এবং ফর্টিফাইড বিস্কুটের ক্ষেত্রেও প্যাকেজিং পুরোপুরি অক্ষত থাকার পাশাপাশি প্যাকেটের গায়ে লেখা উৎপাদন-মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন নিখুঁতভাবে যাচাই করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা’ নামে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করেছিলেন। শিশুদের বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার সেই সরকারি উদ্যোগ আবারও নতুনভাবে শুরু হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির পরিসর এবার আরও বাড়ানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকার দেশের ৬২ জেলার দেড় শতাধিক উপজেলার দরিদ্রপীড়িত এলাকার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাছাই করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৩১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পাবে। খাবারের তালিকায় থাকবে বন রুটি, সেদ্ধ ডিম, পাস্তুরিত দুধ, ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও মৌসুমি ফল।

১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ সফল হওয়ার পর ২০০১ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় দেশে প্রথমবারের মতো স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু হয়। যা ২০১০ সাল পর্যন্ত চলেছিল। পরে ২০২২ সাল পর্যন্ত দরিদ্রপীড়িত এলাকায় আরও একটি আলাদা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
 
তবে অন্যান্য কার্যক্রমের মতো বিএনপি আমলে শুরু হওয়া এই উদ্যোগকে আওয়ামী লীগ সরকার গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর প্রভাব পড়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমেও। পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে অনেক জায়গায় শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হতো। সম্প্রতি কয়েকটি স্কুলে সেই খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়লে স্কুল ফিডিংয়ের দুরবস্থার বিষয়টি সামনে আসে।
 
শিক্ষার্থীরা জানায়, খাবার অনেক শক্ত থাকে। খাওয়ার পর থেকেই পেটে ব্যথা শুরু হয়। কারও কাছে খাবার থেকে দুর্গন্ধও মনে হয়। খাবার খাওয়ার পর গ্যাসের সমস্যাও দেখা দেয়।
 
অভিভাবকদের অভিযোগ, এই খাবার খেয়ে যদি শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। তাদের মতে, খাবারের মান খুবই খারাপ ছিল। অনেক শিশুর পেটে গ্যাস ও ব্যথার সমস্যা দেখা দিয়েছে।
 
শুধু অভিভাবকরাই নন, শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সঙ্গে একমত। তারা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছিল। একজন শিক্ষক বলেন, তিনি নিজেও খাবার খেয়ে টক ও বাসি ধরনের স্বাদ পেয়েছেন।

আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত