বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমান রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে দার্জিলিংয়ে এই নির্বাচন ও বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জন নিয়ে কথা বলেছেন ভারতের সাব্কে হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘যারা অন্তর্বর্তী প্রশাসন চালাচ্ছেন, তারা নিজেরাই সেই অবস্থানে বসিয়েছেন; তারা নির্বাচিত নন। এই প্রশাসন এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ভারত সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত, কিন্তু সেটি হচ্ছে না।’’
নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাবনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্রিংলা বলেন, ‘‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ইসলামপন্থী দলটি ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’’
তিনি বলেন, ‘‘যদি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হয় এবং কারচুপি হয়, তাহলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারে। নাহলে তাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা কম। দলটির ভোটের হার পাঁচ থেকে সাত শতাংশ, তাও আবার অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তায়।’’
রাজ্যসভার এই সদস্য বলেন, ‘‘বাংলাদেশ থেকে লোকজন এখানে আসছেন এবং রাজনৈতিক স্বার্থে তাদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে। এই অনুপ্রবেশকারীরা একটি সমস্যা এবং আমাদের এই চর্চা বন্ধ করতে হবে। আমরা চাই, বাংলা উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাক।’’
বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জনের বিষয়ে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, কোনো নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ক্রীড়াজগতের স্বার্থের পরিপন্থী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমার অনেক বন্ধু আছেন, যাদের অনেকেই ক্রীড়াজগতের সঙ্গে যুক্ত। তারা মনে করেন, এই ইভেন্টে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সাধারণভাবে ক্রীড়ার, বিশেষ করে ক্রিকেটের স্বার্থে নেওয়া হয়নি।
শ্রিংলা বলেন, বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন; যারা নির্বাচিত নয়, তারা বাংলাদেশ পরিচালনা করছে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।

