মাদুরোকে গ্রেপ্তারে মার্কিন অভিযানের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৭ এএম

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানের বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

তার দাবি, অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মাত্র ১৫ মিনিট সময় বেঁধে দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে না নিলে তাদের হত্যা করা হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

সাত দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ভেনেজুয়েলায় অনুষ্ঠিত দুই ঘণ্টার এক বৈঠকের ফাঁস হওয়া ভিডিওতে এসব কথা বলতে শোনা যায় রদ্রিগেজকে। ভিডিওটি স্থানীয় সাংবাদিকরা সংগ্রহ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টকে অপহরণের একেবারে প্রথম মিনিট থেকেই হুমকি শুরু হয়। আলটিমেটামের জবাব দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো, কংগ্রেসের সভাপতি ও তার ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ এবং তাকে ১৫ মিনিট সময় দেয়া হয়েছিল।

ভিডিওতে রদ্রিগেজ বলেন, ওই পরিস্থিতিতে তার প্রধান অগ্রাধিকার ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখা। যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার পর ক্ষমতাসীন মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যরা কীভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন, তাও ভিডিওতে উঠে আসে। এতে দেখা যায়, মন্ত্রিসভার অনেকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিলেন।

রদ্রিগেজ জানান, মাদুরোকে আটক করার আগেই তিনি ও তার ভাই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়াটা সহজ ছিল না।

ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংয়ে রদ্রিগেজ আরও দাবি করেন, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী তাদের জানিয়েছিল; মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস অপহৃত নন, তাদের হত্যা করা হয়েছে। এর জবাবে তিনি বলেন, তিনি, তার ভাই ও কাবেয়ো একই পরিণতির জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

রদ্রিগেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল এখনও অব্যাহত রয়েছে। তাই ধৈর্য ও কৌশলগত বিচক্ষণতার সঙ্গে এগোতে হবে। তিনি তিনটি লক্ষ্য নির্ধারণের কথাও জানান; শান্তি বজায় রাখা, জিম্মিদের উদ্ধার এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা সংরক্ষণ।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আচরণ করায় রদ্রিগেজের প্রশংসা করেছেন। তবে রদ্রিগেজের ভাষ্য, তিনি তা করেছেন কেবল হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল-এর কারণে। জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্য আটলান্টিককে বলেছিলেন, রদ্রিগেজ সঠিক কাজ না করলে তাকে বড় মূল্য দিতে হবে; সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বেশি।

অন্যদিকে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মার্গারিতা লোপেজ মায়া দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, এটি রদ্রিগেজের আত্মরক্ষামূলক বয়ানও হতে পারে। কারণ, তার মতে, অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া মাদুরোকে অপসারণ করা সম্ভব ছিল না।

মাদুরোকে আটক করার পর থেকে ভেনেজুয়েলা সরকার প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করলেও বাস্তবে ট্রাম্পের সব দাবিই মেনে নিয়েছে। মাদুরোর স্থলাভিষিক্ত হন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ, যাকে ট্রাম্প সমর্থন দেন। শর্ত ছিল, ওয়াশিংটনকে ভেনেজুয়েলার সমৃদ্ধ তেলসম্পদে প্রবেশাধিকার দিতে হবে।

এ সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল থেকে অংশ পাওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আরও ধনী হতে যাচ্ছে।

HN
আরও পড়ুন