ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৯৩০

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম

ভেনিজুয়েলায় গত জুনে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তবে জাতিসংঘের আশঙ্কা, এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভেনিজুয়েলার আইনপ্রণেতা জর্জ রদ্রিগেজ নিশ্চিত করেছেন যে, ভূমিকম্পে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৪,৯৩০ জন। প্রায় এক মাস আগের এই বিপর্যয় লাখো মানুষকে চরম সংকটে ফেলেছে। বর্তমানে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত অবস্থায় রয়েছেন এবং ২১,১২০ জন গৃহহীন মানুষ বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন।

ভূমিকম্পের পর থেকে স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করলেও সরকারের সাড়া অত্যন্ত ধীরগতির বলে অভিযোগ করেছেন দুর্গতরা।

সিনথিয়া পুলিদো নামের এক বাস্তুচ্যুত নারী আল জাজিরাকে বলেন, ভূমিকম্পের পর প্রথম মুহূর্ত থেকেই সাধারণ মানুষ এবং স্বাধীন ব্যক্তিরাই তাৎক্ষণিক সাড়াদান ও উদ্ধারে এগিয়ে এসেছিল। রাষ্ট্রের কার্যক্রম কেবল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে।

বর্তমানে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধারের প্রাথমিক পর্ব শেষ করে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো চলে গেছে এবং এখন প্রধান নজর দেওয়া হচ্ছে মানবিক সহায়তার দিকে।

২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া ভেনিজুয়েলার জন্য এই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

'সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চ'-এর সহ-পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ মার্ক ওয়েইসব্রট বলেন, ভেনিজুয়েলার নিজস্ব জরুরি সম্পদ রয়েছে, যা তাদের ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো ভেনিজুয়েলার প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার আটকে রেখেছে, যা আইনত দেশটির পাওয়ার কথা ছিল।

স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘এল পাইস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা হোয়াইট হাউজকে ভেনিজুয়েলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা লিখেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা জরুরি ত্রাণ সরবরাহ এবং দেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পের এই ক্ষতি কাটিয়ে ভেনিজুয়েলার সামগ্রিক পুনর্গঠন কাজে প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন