মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের পদধ্বনি

ইরানি হামলায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে মহাবিপর্যয়, দিশেহারা ট্রাম্প প্রশাসন

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৬, ১০:৪০ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এখন কেবল সামরিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে। কাতারের রাস লাফান এলএনজি (LNG) কেন্দ্রে ইরানি হামলা এবং মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমানের জরুরি অবতরণ এই দুই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম ও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্যারিসের ‘সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসি’-এর বিশেষজ্ঞ অ্যান-সোফি কর্বো আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রপ্তানি কেন্দ্র কাতারের ‘রাস লাফান’-এ ইরানের সাম্প্রতিক হামলা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক ‘মর্মান্তিক’ বার্তা। কর্বোর মতে, এই স্থাপনাটি মেরামত করতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি ২০২২ সালের টেক্সাসের ফ্রিপোর্ট এলএনজি এবং ২০২০ সালের নরওয়ের স্নোভিট কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে বলেন, এ ধরনের স্থাপনা পুনরায় চালু হতে দীর্ঘ সময় লাগে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে রাস লাফান ২০২৬ সালে চালু না-ও হতে পারে, যার অর্থ হলো বিশ্বের এলএনজি সরবরাহ এক ধাক্কায় ২০২১ সালের অবস্থানে ফিরে যাবে। এই পাঁচ বছরের পিছিয়ে যাওয়া বিশ্বজুড়ে গ্যাসের দামকে আকাশচুম্বী করে তুলবে।

এদিকে, সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে যে, গত বৃহস্পতিবার ইরানের আকাশে এক কমব্যাট মিশন শেষে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক F-35 স্টিলথ ফাইটার জেট জরুরি অবতরণ করেছে। সিএনএন-এর দাবি, ১০০ মিলিয়ন ডলারের এই বিমানটি সম্ভবত ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই প্রথম কোনো F-35 শত্রুপক্ষের গোলার মুখে পড়ার খবর পাওয়া গেল, যা মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১২টি ড্রোন এবং বেশ কিছু রিফুয়েলিং বিমান হারিয়েছে।

সামরিক ও অর্থনৈতিক এই দ্বিমুখী সংকটের মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন সসম্মানে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার (Exit Strategy) পথ খুঁজছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষক ত্রিতা পার্সি। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর (GCC) অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় মার্কিন অর্থনীতিতেও এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সাধারণ মার্কিনিদের বিরোধিতা এবং কট্টর সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অস্থিরতা ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলেছে। যদিও প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এখনো ইরানের নৌ-শক্তি ও পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের অঙ্গীকারে অনড়, তবে বাস্তব পরিস্থিতি ট্রাম্পকে একটি সমঝোতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এ পর্যন্ত যুদ্ধে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ১,৪০০-এর বেশি ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই সংঘাতের ফলে সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে। সূত্র: আলজাজিরা

SN
আরও পড়ুন