ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান লক্ষ্যপূরণের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং তিনি এখন এটি ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ কথা ভাবছেন।
হোয়াইট হাউসের সামনে শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আমরা আলোচনা করতে পারি, কিন্তু কোনও যুদ্ধবিরতি হবে না। যখন আপনি অন্য পক্ষকে আক্ষরিক অর্থেই নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন, তখন যুদ্ধবিরতি হয় না।
মধ্যপ্রাচ্যে গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধের মধ্যেই নতুন করে মার্কিন মেরিন সেনা পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ইউএসএস বক্সার নামক একটি যুদ্ধজাহাজে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনা ওই অঞ্চলের দিকে রওনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি স্থল অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতি।
বিশেষ করে ইরানের অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ইরানকে চাপে ফেলতে দ্বীপটি দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কিছু না বলে ট্রাম্প দ্বীপটিকে আলোচিত জায়গা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
দিনের শেষ দিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প এক পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তিনি ইরানের ‘সন্ত্রাসবাদী শাসনের’ বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশাল সামরিক প্রচেষ্টা গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তা না করায় সামরিক জোট ন্যাটোর কঠোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ এবং তাদের সদস্যদের ‘ভীতু’ বলে আখ্যায়িত করেন।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার জন্য তিনি ইরানের এই নৌপথ অবরোধকে দায়ী করেন এবং মিত্র দেশগুলোকে এটি পাহারার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইসরায়েল এই যুদ্ধ বন্ধে একমত হবে কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প ইতিবাচক উত্তর দেন। তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। আমরা দুজনেই বিজয় চাই এবং আমরা তা পাচ্ছি।
৭৯ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান নেতা আরো দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান ‘অত্যন্ত সফলভাবে’ এগিয়ে চলছে।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তবে সিবিএস নিউজ বলছে, সামরিক কর্মকর্তারা ইরানি বাহিনীকে আটক করা বা সম্ভাব্য আক্রমণের বিস্তারিত পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করেছেন। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ইসরায়েলে ফের ইরানের হামলা, আহত ২০
