ইরান যুদ্ধে মোতায়েন করা বিশ্বের বৃহত্তম ও অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ বর্তমানে গ্রিসের ক্রিট নৌঘাঁটিতে ফিরে এসেছে। সম্প্রতি জাহাজটিতে ঘটা একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পেছনে ‘পরিকল্পিত নাশকতার’ বা অন্তর্ঘাতের অভিযোগ ওঠায় রণতরীটি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। মার্কিন নৌবাহিনী এই ঘটনার পেছনে ক্লান্ত ও হতাশ নাবিকদের হাত আছে কি না, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।
গত ১২ মার্চ রণতরীটির লন্ড্রি রুমে রহস্যজনকভাবে আগুন লাগে। বিশালাকার এই জাহাজে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নৌবাহিনীর সদস্যদের টানা ৩০ ঘণ্টা লড়াই করতে হয়েছিল। এই ঘটনায় ২ জন ক্রু সদস্য আহত হন এবং জাহাজের অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রাথমিকভাবে একে সাধারণ দুর্ঘটনা মনে করা হলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো চাঞ্চল্যকর দাবি করছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে অবস্থান করা এবং দফায় দফায় মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানোয় নাবিকদের মধ্যে চরম মানসিক অবসাদ ও হতাশা ভর করেছে। দ্রুত বাড়ি ফেরার সুযোগ তৈরি করতেই কোনো কোনো নাবিক ইচ্ছাকৃতভাবে এই আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পেন্টাগন। যদি এটি প্রমাণিত হয়, তবে যুদ্ধের ময়দানে মার্কিন সেনাদের মনোবল ও শৃঙ্খলা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠবে।
গত বছরের জুন মাসে ভার্জিনিয়া থেকে রওনা হওয়া এই রণতরীটির ইতিহাস বেশ ঘটনাবহুল। ভেনিজুয়েলা সংকটের সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এটি ক্যারিবীয় সাগরে মোতায়েন ছিল এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত ডিসেম্বরেই ক্রুদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল, কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী মে মাস পর্যন্ত করা হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, টানা ১০ মাস সমুদ্রে থাকায় নাবিকরা যেমন ক্লান্ত, তেমনি জাহাজটির জটিল প্রযুক্তিগত সিস্টেমগুলোও দীর্ঘ সময় মেরামতের বাইরে থাকায় ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ইরান যুদ্ধের বিশাল আর্থিক ও মানসিক চাপের এক স্পষ্ট চিত্র।
ইরানের হামলায় পিছু হটলো মার্কিন রণতরী 'আব্রাহাম লিংকন'
মধ্যপ্রাচ্যে আসছে নতুন মার্কিন রণতরী
মিসরের উপকূলে বিপাকে পড়েছে মার্কিন রণতরী
