মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যুক্ত হলো নতুন ও ভয়াবহ এক মাত্রা। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করতেই সরাসরি যুদ্ধে যোগ দিলো ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে দক্ষিণ ইসরায়েল লক্ষ্য করে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নৌ মিশন।
লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতা এবং ইরানের প্রতি তাদের ক্রমবর্ধমান সমর্থনের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইউরোপীয় নৌ মিশন।
রোববার (২৯ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে মিশনটি বিশেষ ‘হালনাগাদ নির্দেশনা’ জারি করেছে। এতে জাহাজগুলোকে নিয়মিত নিবন্ধন করতে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যানেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ইইউ-র যুদ্ধজাহাজগুলো বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় মোতায়েন রয়েছে।
দীর্ঘ জল্পনা ও হুমকির পর অবশেষে সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করল হুথিরা। ‘টাইমস অফ ইসরায়েল’-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে দক্ষিণ ইসরায়েল লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর ইয়েমেন থেকে এটিই প্রথম সরাসরি বড় ধরণের আক্রমণ।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে যে, তারা ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করতে পেরেছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স) সেটি প্রতিহত করতে কাজ করেছে।
লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট। হুথিদের এই সরাসরি অংশগ্রহণ এবং ইইউ-র হাই-অ্যালার্ট জারির ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে হুথি আন্দোলনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের ওপর হামলা বৃদ্ধি করে, তবে তারা সরাসরি ইরানের সমর্থনে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কেবলই ‘সতর্কবার্তা’, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৩ সাংবাদিক নিহত
