ইরান যুদ্ধে হুথি

বিশ্ব অর্থনীতি ও নৌ-পথে সংকটের শঙ্কা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১১:৪০ এএম

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সরাসরি অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। হুথি গোষ্ঠীটি বাব আল-মান্দাব প্রণালি অবরুদ্ধ করার হুমকি দিচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি কেবল ইসরায়েল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েই ক্ষান্ত হচ্ছে না  বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই যুদ্ধে।

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করা হুথিরা দীর্ঘকাল সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায় হামলা শুরু করেছে। ওমানের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের মে মাস থেকে মার্কিন জাহাজে হামলা বন্ধ রাখার একটি যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরায়েলের ক্ষেত্রে তারা কোনো নমনীয়তা দেখায়নি। বিশ্লেষক ফারিয়া আল-মুসলিম সতর্ক করেছেন যে, লোহিত সাগরে হুথিদের অব্যাহত আক্রমণের ফলে জাহাজ চলাচলের খরচ এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে। ইতিমধ্যেই বড় জাহাজ কোম্পানিগুলো লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি করেছে।

হুথিদের এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক 'প্রক্সি' গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করার ইরানি কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর পেছনে কিছু অভ্যন্তরীণ সমীকরণও রয়েছে; একদিকে তারা ইয়েমেনের অভ্যন্তরে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে চায়, অন্যদিকে সৌদি আরবের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধার প্রত্যাশা করছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই উত্তেজনা এক দশকের বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইয়েমেনকে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের অতল গহ্বরে টেনে নিতে পারে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে চরম সীমায় পৌঁছে দেবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

SN
আরও পড়ুন