আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারে নেমেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার (৩০ মার্চ) পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পশ্চিমে এক জনসভা থেকে তিনি বিরোধী দল বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন এবং রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মানুষের খাদ্যাভ্যাস পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হতে পারে।
দিনভর তিনটি সভা করেন তিনি। প্রথম সভা ছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায়, এরপর পাঁশকুড়া পশ্চিম এবং দিনের শেষ সভা করেন ডেবরা বিধানসভা কেন্দ্রে। প্রতিটি সভাতেই তিনি নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় থাকার বার্তা দেন।
পাঁশকুড়ার সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, একটি আসনও হারানো চলবে না। তার কথায়, একটি আসন হারালেই সেই এলাকায় বিজেপি এসে মানুষের জীবনযাত্রায় হস্তক্ষেপ করবে।
তিনি দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মানুষের মাছ-মাংস খাওয়ার স্বাধীনতাও সংকুচিত হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের অধিকারেও বাধা আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি আসন তার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভোটের দিন প্রতিটি বুথে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে মহিলাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোট পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি বলেন, যদি তিনি যোদ্ধা হন, তাহলে রাজ্যের মায়েরা তার সহযোদ্ধা। পুরুষদের পেছনে থেকে সহযোগিতা করার কথা বললেও, সামনে থেকে লড়াইয়ের ডাক দেন মহিলাদের।
বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, বিপুল অর্থবল নিয়ে তারা নির্বাচনে নেমেছে। যারা নিজেরাই দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত, তারাই আবার অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ কেনো দেওয়া হয়নি এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা?
মমতা দাবি করেন, বাংলার স্বার্থ রক্ষা করতে হলে বর্তমান সরকারকে আবার ক্ষমতায় আনা প্রয়োজন। তার বক্তব্যে উঠে আসে, রাজ্যকে কেউ বিক্রি করতে পারে না এবং বাংলার স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা জরুরি।
সভায় তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভ্যাসের ওপর আঘাত আসতে পারে যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই ভোটারদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দিনভর সভাগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পাঁশকুড়ার সভায় বিপুল ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দলীয় কর্মীরা জানান, এই জনসমাগমই নির্বাচনে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। রাজ্যের রাজনীতিতে এখন নির্বাচনি উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে শাসক দল উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিরোধীরা পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে মমতার এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই এ ধরনের মন্তব্য এবং পাল্টা মন্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তবে শেষপর্যন্ত মানুষের রায়ই নির্ধারণ করবে রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিশা।
মার্কিন তেল অবরোধ ভেঙে কিউবায় যাচ্ছে রুশ জাহাজ
