প্রথমবারের মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করলো জাপান

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম সামরিক কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনে প্রথমবারের মতো শক্তিশালী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে জাপান। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুমামোটো প্রিফেকচারের ‘ক্যাম্প কেনগুন’ সেনা ঘাঁটিতে এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাপানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মোতায়েন করা এই অস্ত্রটি হলো মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি উন্নত ‘টাইপ-১২’ ভূমি থেকে জাহাজে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। আগে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ছিল মাত্র ২০০ কিলোমিটার, তবে নতুন সংস্করণে এটি প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে চীনের মূল ভূখণ্ডের একটি বড় অংশ এখন জাপানের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র সীমার মধ্যে চলে এলো।

জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান এখন সবচেয়ে জটিল ও চ্যালেঞ্জিং নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখোমুখি। দেশের প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং যেকোনো আক্রমণের দ্রুত জবাব দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন অত্যন্ত জরুরি ছিল। এটি আমাদের আত্মরক্ষার দৃঢ় অবস্থানেরই প্রতিফলন।’

জাপান কেবল টাইপ-১২ মোতায়েন করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না; মঙ্গলবারই টোকিওর কাছে ‘ক্যাম্প ফুজি’ ঘাঁটিতে একটি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল (HGV) মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জাপানি যুদ্ধজাহাজগুলোতে মার্কিন তৈরি ‘টমাহক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বসানোর কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে, যার পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার। জাপান ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের উত্তর ও দক্ষিণে এমন আরও বেশ কিছু মিসাইল বেস তৈরির পরিকল্পনা করেছে।

আবাসিক এলাকার কাছাকাছি এমন বিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন করায় ক্যাম্প কেনগুনের বাইরে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপের ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়বে এবং যুদ্ধের সময় তাঁদের এলাকা সরাসরি শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। অন্যদিকে, জাপান চীনের সামরিক তৎপরতা এবং তাইওয়ান ঘিরে উত্তজনাকে তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে দেখছে।

চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার এ বছর প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে। এই বিপুল অর্থ মূলত ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং উপকূলে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যুহ গড়তে ব্যয় করা হচ্ছে।

FJ
আরও পড়ুন