মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ বিধ্বস্ত, প্রাণে বাঁচলেন পাইলট

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে প্রশিক্ষণ চলাকালীন বিমানবাহিনীর একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক ‘এফ-৩৫ লাইটনিং-২’ (F-35 Lightning II) স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বিমানে থাকা পাইলট অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে ইজেক্ট করতে সক্ষম হওয়ায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ইকোনোমিক টাইমস ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেভাডার নেলিস বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় ২৫ মাইল উত্তর-পূর্বে ‘নেভাডা টেস্ট অ্যান্ড ট্রেনিং রেঞ্জ’-এ বিমানটি আছড়ে পড়ে। এলাকাটি মূলত উন্নত ফ্লাইট অপারেশন এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা পরীক্ষার জন্য সংরক্ষিত একটি নিয়ন্ত্রিত সামরিক অঞ্চল। জনবসতি থেকে অনেক দূরে এই দুর্ঘটনা ঘটায় কোনো সাধারণ নাগরিক হতাহত হননি বা জানমালের ক্ষতি হয়নি।

দুর্ঘটনার কবলে পড়া মাত্রই পাইলট বিমানটি থেকে প্যারাসুট নিয়ে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। নেলিস বিমানঘাঁটির জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসায় জানানো হয়েছে, পাইলট সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।

কী কারণে এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হলো, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি মার্কিন বিমান বাহিনী। তবে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বিমানের ‘ব্ল্যাক বক্স’ বা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার বিশ্লেষণ করে যান্ত্রিক ত্রুটি, পরিবেশগত সমস্যা না কি মানবিক ভুল ছিল- তা খতিয়ে দেখছেন।

পঞ্চম প্রজন্মের এই স্টেলথ যুদ্ধবিমানকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক যান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে নিখুঁত নিশানায় হামলার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধে অত্যন্ত পারদর্শী। ২০১০-এর দশকে এটি মার্কিন বাহিনীতে যুক্ত হলেও প্রশিক্ষণ চলাকালে ইতিপূর্বেও বেশ কয়েকবার এই মডেলের বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

FJ
আরও পড়ুন