যুদ্ধের প্রভাব এড়াতে একজোট দক্ষিণ কোরিয়া-ইন্দোনেশিয়া 

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় একজোট হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। 

বুধবার (১ এপ্রিল) সিউলে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাড়ানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বড় ধরণের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ং এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর মধ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় সহযোগিতা সম্প্রসারণে ঐকমত্য হয়। 

সম্মেলন শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়- যুদ্ধবিমান, প্রশিক্ষণ বিমান এবং আধুনিক ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্পে দুই দেশ একে অপরের পাশে থাকবে।

বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কেএফ-২১’ (KF-21) সুপারসনিক যুদ্ধবিমান উন্নয়নের অগ্রগতিতে উভয় নেতা সন্তোষ প্রকাশ করেন। ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়াকে অংশীদার করে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের প্রথম বিমানটি গত সপ্তাহেই উন্মোচন করা হয়েছে। জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়া ইন্দোনেশিয়ায় ১৬টি উন্নত কেএফ-২১ যুদ্ধবিমান রপ্তানি করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইন্দোনেশিয়াকে কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে দেখছে সিউল। চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো এ বছর ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৮ লক্ষ ২০ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পাবে। এই বিশাল পরিমাণ গ্যাস দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সকল গ্যাস-চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র টানা ১২ দিন চালানো সম্ভব হবে।

প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ং বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদের সরবরাহ চেইন নিরাপদ করতে আমাদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা বিশ্বরাজনীতির বর্তমান কঠিন সময়ে অত্যন্ত জরুরি।’

অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তো এই অংশীদারিত্বকে উভয় দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার রক্ষাকবচ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই শক্তির হাত মেলানো মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট সাপ্লাই চেইন সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)

FJ
আরও পড়ুন