পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে মহাকাশের ইতিহাসে এক নতুন ও অনন্য রেকর্ড গড়লেন নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী। মানুষের তৈরি মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবী থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন তারা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে তারা চাঁদের দূরতম বা অদেখা পাশে পৌঁছান।
নাসা জানিয়েছে, নতুন এই রেকর্ড গড়ার সময় ওরিয়ন মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার (২ লক্ষ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল) দূরে অবস্থান করছিল। এর আগে ১৯৭০ সালে নাসার ‘অ্যাপোলো-১৩’ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ৪ লক্ষ ১৭১ কিলোমিটার দূরে গিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। দীর্ঘ ৫৬ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন আর্টেমিস-২ এর চার অকুতোভয় যাত্রী কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কচ, ভিক্টর জে. গ্লোভার এবং জেরেমি হ্যানসেন।
মহাকাশযানটি যখন চাঁদের আড়ালে যায়, তখন প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবীর সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পুনরায় সংযোগ স্থাপিত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নভোচারীদের অভিনন্দন জানান এবং সরাসরি কথা বলেন। ট্রাম্প জানতে চান, ‘এই ঐতিহাসিক দিনের সবচেয়ে অবিস্মরণীয় অংশ কোনটি?’

জবাবে কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান বলেন, ‘আমরা এমন সব দৃশ্য দেখেছি, যা আগে কোনো মানুষ দেখেনি এমনকি অ্যাপোলো অভিযানের সময়ও নয়। আমাদের জন্য এটি ছিল সত্যিই বিস্ময়কর এবং জাদুকরী এক অভিজ্ঞতা।’

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সময় কেমন লাগছিল ট্রাম্পের এমন প্রশ্নের জবাবে নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার বলেন, ‘সংযোগ চলে যাওয়ার পর আমি কিছুক্ষণ প্রার্থনা করেছিলাম। তবে আমরা বসে ছিলাম না, ওই সময় চাঁদের অদেখা অংশের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য সংগ্রহের কাজে আমরা ভীষণ ব্যস্ত ছিলাম। সত্যি বলতে, অভিজ্ঞতাটা বেশ ভালোই ছিল।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সফলতাকে ‘বিশেষ কিছু’ হিসেবে অভিহিত করে নভোচারীসহ নাসার পুরো টিমকে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে মিশন শেষে পৃথিবীতে ফেরার পর তাঁদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিশ্রুতি দেন। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক মিশন শেষে ওরিয়ন মহাকাশযানটি পৃথিবীর পথে যাত্রা শুরু করেছে।
৪০ মিনিট উৎকণ্ঠার পর নাসার সঙ্গে যোগাযোগ পুনর্স্থাপন
পৃথিবীর সঙ্গে চাঁদে যাওয়া আর্টেমিস-২ এর ‘যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন’ 
