ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর শিরাজ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো শিরাজ শহরের এমন একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আঘাত হেনেছে, যেখানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘নাইট্রিক অ্যাসিড’ উৎপাদন করা হতো। ইসরায়েলের দাবি, এই নাইট্রিক অ্যাসিড ইরানের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ ও সামরিক বাহিনীর বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
আইডিএফ আরও দাবি করেছে যে, আক্রান্ত এই স্থাপনাটি ছিল ইরানের হাতে থাকা এমন কয়েকটি হাতেগোনা কেন্দ্রের একটি, যেখান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান এবং বিস্ফোরকের কাঁচামাল সরবরাহ করা হতো। এই হামলার ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন প্রক্রিয়া বড় ধরণের বাধার মুখে পড়বে বলে মনে করছে তেল আবিব। তবে নিজেদের দাবির স্বপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেনি ইসরায়েল।
মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে দুই পক্ষই একে অপরের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। শিরাজ-এর এই পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত ইরানের সামরিক রসদ সরবরাহের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তেহরানের পক্ষ থেকে এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরে একের পর এক শিল্প ও সামরিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি এই আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যকে একটি ভয়াবহ দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
‘মসজিদ’ মনে করে ইহুদিদের সিনাগগ ধ্বংস করলো ইসরাইল
ইরানিদের ট্রেন ব্যবহারে সতর্ক করলো ইসরাইল
